নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে অবস্থিত হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্নেল তাহের মিলনায়তনে সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সারা দেশ থেকে আসা সাড়ে তিন শ’ প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। বেলা ২টা ১৫ মিনিটের দিকে কার্যালয়টির ভেতর থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয় এবং সেখানে ধানমন্ডির মিছিল থেকে পালিয়ে আসা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর ছড়ায়। জানা গেছে, সে সময় কার্যালয়ের ভেতরে চার শতাধিক লোক অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনাটি জানতে পেরে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের ২০০ থেকে ২৫০ জন নেতাকর্মী জাসদ কার্যালয়ের বাইরে জিপিও মোড়ের প্রধান সড়কে জড়ো হয়ে মিছিল ও ঘেরাও করেন। এ বিষয়ে জাসদের দফতর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের প্রতিনিধি সভা চলাকালে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা জানায়, যাতে জাসদের অনেক নেতাকর্মী আহত হন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি  হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। বেলা আড়াইটা থেকে ৪টা পর্যন্ত অভিযান শেষে বিকেলে জাসদ কার্যালয় থেকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে পুলিশ ভ্যানে করে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। 
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য রয়েছেন। আটক হওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে হাতকড়া পরা ছবি পোস্ট করে সূর্য লেখেন, ‘আজ জাসদের প্রতিনিধি সভায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় আমাকেসহ অনেককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে। পল্টন থানায় আছি।’
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো: আকতার হোসেন ও পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শফিকুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেক সাধারণ মানুষ, পথচারী ও সাংবাদিক থাকতে পারেন; তাই পল্টন থানায় নিয়ে তাদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং নির্দোষদের ছেড়ে দেয়া হবে।
এর আগে ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গতকাল শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক এলাকায় মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে একদল নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি সাতমসজিদ রোড থেকে শুরু হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালের পাশ দিয়ে ২৭ নম্বর সড়কের বাটা শোরুমের সামনে পৌঁছালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়া হয়। এ সময় মিছিলকারীরা পরপর চারটি ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিয়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব ও মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হাতবোমা ও ব্যানারসহ ধানমন্ডি এলাকা থেকে তিনজন এবং মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।