নয়া দিগন্ত ডেস্ক

নড়াইলে এক কৃষক এবং রাজশাহীতে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। অন্য দিকে দেশের চার জেলায় চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে কৃষক মানসুর মোল্যাকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মানসুর কদমতলা গ্রামের হাবি মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে হাসিব মোল্যা (২০) পলাতক রয়েছে।  
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় গত শুক্রবার নড়াইলের পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) কাসেদ মোল্যার সাথে তার বংশীয় হাসিব মোল্যার বাগি¦তণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত হাসিব ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারে। 
এরপর শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদততলা ত্রিমোহনার  মোড়ের দোকানে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী মেম্বার কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম অভিযুক্ত হাসিবের কাছে জানতে চান- কেন কাসেদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। এ সময় হঠাৎ করেই ধারালো ছুরি বের করে হাসিব ভুক্তভোগী মানসুর ও নূর ইসলামকে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত মানসুরকে খুলনায় নেয়ার পথে মারা যান তিনি। আহত নূর ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 
ইউপি মেম্বার কাসেদ মোল্যা বলেন, হাসিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাকে মাদকসেবন করতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করে। এরপর ধারালো ছুরিকাঘাতে মানসুর ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত হাসিবের সাথে আমাদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না। 
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে আবদুল বারী (৪০) নামে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে তার দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। শনিবার রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পূর্বের বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিহতের স্বজন ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
নিহত আবদুল বারী ওই এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে। তিনি বাড়ির সামনেই একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর চন্ডিপুর এলাকার কয়েকজন যুবক বাকির মোড় এলাকায় এসে বারীর দোকানে টাকা ভাঙাতে (খুচরা) চান। তিনি টাকা ভাঙিয়ে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এরই জের ধরে রাত পৌনে ২টার দিকে ৫০ থেকে ৫৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রলবোমা নিয়ে বারীর বাড়ির সামনে আসে বলে দাবি করেন স্বজনেরা। পুলিশও হামলার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। হামলাকারীরা প্রথমে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ফেলে এবং পরে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দোকানে আগুন দেখে আবদুল বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, নিখোঁজের দুই দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফরিদুল রহমান (৩৬) নামে এক মাদরাসা সুপারের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলমুড়া এলাকার একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফরিদুল রহমান হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রায়পুর গ্রামের ছাবির হোসেনের ছেলে। তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর বাগে মদিনা ইবতেদায়ি মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার  মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর ফরিদুল রহমান নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় নাসিরনগরের গুনিয়াউক ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলমুড়া এলাকার একটি ডোবায় অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে নাসিরনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
পুলিশের উদ্ধার করা লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে সেটি ফরিদুল রহমানের বলে শনাক্ত করেন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, ফরিদুল রহমান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ধানক্ষেত থেকে মো: রমজান মিয়া (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবী দলনেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার রাতে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের ঠুটারজঙ্গল গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রমজান মিয়া ওই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি সুখিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহসভাপতি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে গোসল করার জন্য লুঙ্গি নিয়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে যান রমজান। তবে গোসল না করে মাছ ধরার জাল নিয়ে পাশের ধানক্ষেতে চলে যান তিনি। এরপর দিনভর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ধানক্ষেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনেরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।  স্থানীয়রা জানান, রমজান মিয়া মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, ভেড়ামারার পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর ভেসে উঠেছে কৃষকের লাশ। গতকাল রোববার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ির কাছে পদ্মা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে ভেড়ামারা থানা এবং সুজানগর থানা পুলিশ। এসময় উদ্ধার অভিযানে থাকা ডুবুরী দল, ফায়ার সার্ভিসের টিম উপস্থিত ছিলেন।  
গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে পদ্মার চরাঞ্চলে সবজির জমিতে কাজ করে ভেড়ামারার বাড়িতে ফিরছিলেন উজির আলী নামে এক কৃষক। এ সময় হঠাৎ করেই নৌকা থেকে পড়ে যান তিনি। চোখের পলকে পদ্মার অথৈই জলে হারিয়ে যান তিনি। 
নিহতের ভাই নাজির মণ্ডল জানিয়েছিলেন, পদ্মা নদীর চরের জমিতে চাষাবাদের কাজ করার জন্য যাচ্ছিল তারা। পদ্মা নদী এখন উত্তাল থাকায় প্রচণ্ড ঢেউ ছিল। নৌকা দুলে দুলে চলছিল। হঠাৎ করেই দেখি ভাই পড়ে গেল। তাকে ধরতে ধরতেই চোখের পলকে পানিতে ভেসে গেল ভাই। এরপর থেকেই স্থানীয় নৌকা, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সাড়ে ১১টার দিকে পাবনার সুজানগর সাতবাড়ি এলাকার লোক পদ্মা নদীতে কিছু ভাসতে দেখেন। এরপর সংবাদ দেয়া হয় পুলিশকে। পরে ডুবুরি দলের সহায়তায় পদ্মা নদী থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শনাক্ত করা হয় উজির মণ্ডলের লাশ এটি।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নের দিয়াবাড়ী সিন্নিরটেক ল্যান্ডিংস্টেশন এলাকার তুরাগ নদী থেকে গতকাল রোববার দুপুরে ভেসে আসা এক অজ্ঞাত যুবকের (৩০) লাশ উদ্ধার করেছে আমিনবাজার নৌথানা পুলিশ। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। 
আমিনবাজার নৌপুলিশ থানার ওসি মো: মিজানুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানান, লাশ উদ্ধার হওয়া যুবকের পরনে টি-শার্ট ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।