নয়া দিগন্ত ডেস্ক
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ জন মারা গেছে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৫৫ জন। তাদের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের শরীরে। এ নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়াল ১০৯৬ জনে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে চারজন, সিলেট বিভাগে দুইজন, চট্টগ্রামে দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন মারা গেছে। হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৪৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৭৫ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৯, চট্টগ্রামে ৮১, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছে।
বুলেটিনে আরো বলা হয়, একদিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১ হাজার ২২৮ জন রোগী উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে। যার মধ্যে এক হাজার ১৫৫ জন ভর্তি হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩০৯ জন, চট্টগ্রামে ৩১৩, সিলেটে ১৫৩, বরিশালে ১২৭, খুলনায় ৯৩, ময়মনসিংহ ৯৬, রাজশাহীতে ২৮ ও রংপুরে ৩৬ জন। গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের সবার হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না। কেবল হাসপাতালে আসা বা ভর্তি রোগীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ জনে।
রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৩ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭৫ জন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারজন, বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
নতুন ভর্তি রোগীসহ বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।





