রিয়াদ মাহমুদ সিকদার কাউখালী (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে আকস্মিক তীব্র নদীভাঙনে একটি বসতঘর ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল রোববার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের মধ্য সোনাকুর গ্রামের পালপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে হঠাৎ এ ভাঙন শুরু হয়। এতে নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা ১০-১২টি বসতবাড়ি ও পাঁচটি মন্দির নিয়েও দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।
স্থানীয়রা জানান, সকালে আকস্মিকভাবে নদীর তীর ভাঙতে শুরু করলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরই মধ্যে স্থানীয় মনা মালোর বসতঘরটি চোখের পলকে নদীতে ভেঙে পড়ে। সেই সাথে ভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যুতের একটি খুঁটিও নদীতে পড়ে যায়। এতে ওই এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
নদীতীরবর্তী লোকনাথ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, শীতল মন্দির ও গঙ্গা মন্দিরও বর্তমানে মারাত্মক ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় এসব স্থাপনা ভেঙে পড়তে পারে নদীতে। সামনে দুর্গাপূজা থাকায় মন্দিরগুলো নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে।
এলাকাবাসী অমল পাল, পরিমল পাল, তৃপ্তি পাল, রবি মালো, বিপুল মালো, সুজন মালো, সঞ্জীব মালো ও রমেন পালসহ অন্তত ১০-১২টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে এ এলাকায় ২০-২২টি বসতবাড়ি নদীগতে ভেঙে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত অমল পাল ও রবি মালো বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা ঘরের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান। প্রাণ বাঁচাতে কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভাঙনে তাদের ঘরসহ সর্বস্ব নদীতে চলে যায়। এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
বিপুল মালো বলেন, গ্রামের পাঁচটি মন্দিরই এখন নদীভাঙনের মুখে। সামনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এর আগে মন্দিরগুলো রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙনকবলিত ও গৃহহারা পরিবারের অনেকেই অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছেন। শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে বিলীন হয়ে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন, এ চিন্তায় দিশেহারা তারা। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।
ভাঙনের খবর পেয়ে আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার জেলা পর্যায়ের সভায় থাকায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখেছেন। ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তিনি জানান।