মো: জাকিরুল হাসান উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো চারার অধিকাংশই পরিচর্যার অভাবে মারা যাচ্ছে। একই সাথে কয়েকটি ইউনিয়নে বাজারদরের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি দামে চারা কেনা ও রোপণ ব্যয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চারার দাম, রোপণ, বাঁশের খুঁটি, বেড়া ও পরিচর্যার ব্যয় মিলিয়েই হিসাব করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ রক্ষা ও সড়ক সবুজায়নের লক্ষ্যে সরকারি দফতর ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে এ জন্য অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ৪৬৯টি গাছ রোপণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক লাখ ৮৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে গাছপ্রতি ব্যয় প্রায় ৩৯৯ টাকা। অথচ স্থানীয় নার্সারি মালিকদের ভাষ্য, এসব চারা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
পাশের বড় বাঙ্গাসী ইউনিয়নে দেড় হাজার গাছ রোপণে গাছপ্রতি ব্যয় হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এ তথ্য জানান।
উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুল আলম বলেন, উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করেছেন। এতে গাছপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচর্যা ও বাঁশের খুঁটির খরচও রয়েছে।
সম্প্রতি উধুনিয়ার বাংলাপাড়া সড়কে সরেজমিন দেখা যায়, রোপণ করা প্রায় ২০০টি গাছের মধ্যে অন্তত ৫০টি মারা গেছে। আরো কয়েকটি চারা মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। অনেক গাছ শুকিয়ে গেছে কিংবা হেলে পড়েছে। অধিকাংশ গাছে বাঁশের খুঁটি বা বেড়া নেই। নিয়মিত পানি দেয়ারও দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিউটি খাতুনের স্বামী মঈনুল হোসেন বলেন, তার স্ত্রীকে সভাপতি করা হলেও কোথা থেকে গাছ কেনা হয়েছে বা কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তা তাকে জানানো হয়নি।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বরাদ্দে চারা কেনা, রোপণ, বেড়া ও পরিচর্যার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস বলেন, গাছ লাগানোর বরাদ্দ থাকলেও পরিচর্যার জন্য অর্থ নেই।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) গণপতি রায় বলেন, প্রকল্পটি এখনো চলমান। ইউনিয়ন পর্যায়ে নজরদারি আরো বাড়ানো হবে।