মালদ্বীপ প্রতিনিধি
মালদ্বীপের মিয়াঞ্জ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচারকে ৯ প্রজাতির মোট ২১ হাজার ৩৬০টি বীজ এবং ২২ হাজার ৩৬০টি পলিব্যাগ দিয়েছে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন। সবুজায়ন মালদ্বীপ গড়তে এসব বীজের অঙ্কুরোদগম, বৃদ্ধি ও অভিযোজনক্ষমতা যাচাই এবং সফল প্রজাতির চারা উৎপাদনের মাধ্যমে দেশটির ৫ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ-মালদ্বীপ গ্রিন ইনিশিয়েটিভের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত রোববার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মিয়াঞ্জ কলেজের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সমঝোতা অনুযায়ী মিয়াঞ্জ কলেজ স্কুল অব এগ্রিকালচার এসব বীজের অঙ্কুরোদগম, চাষাবাদ, পরিচর্যা ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করবে। এসব গবেষণার মাধ্যমে কোন কোন প্রজাতির চারা মালদ্বীপের পরিবেশে সফলভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তা চিহ্নিত করা হবে। সফল প্রজাতিগুলো থেকে উৎপাদিত চারা পরবর্তীতে বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হবে। 
প্রাথমিকভাবে দেয়া বীজের মধ্যে রয়েছে পাঁচ হাজার পেয়ারা, দুই হাজার ৫০০ আকাশমণি, এক হাজার ৬০০ কৃষ্ণচূড়া, এক ২০০ নিম, পাঁচ হাজার গগন শিরীষ, ৭০০ বকুল, পাঁচ হাজার ইপিল-ইপিল, ২০০ অর্জুন ও ১৬০টি বহেরা। সাথে এই চারা উৎপাদনের জন্য ২২ হাজার ৩৬০টি পলিব্যাগও সরবরাহ করা হয়েছে।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, এ উদ্যোগ শুধু বীজ ও চারা উৎপাদনসামগ্রী প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যা এটি দুই দেশের সহযোগিতায় একটি বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণামুখী নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বীজ বিনিময় করছি না, শুধু গাছ লাগাচ্ছি না- আমরা একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আমাদের অঙ্গীকার, অভিজ্ঞতা ও অভিন্ন ভাবনা বিনিময় করছি।’
এ অনুষ্ঠানে মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আহমেদ মুত্তাকী বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাওয়া বীজগুলো প্রথমে মিয়াঞ্জ কলেজের স্কুল অব এগ্রিকালচারের তত্ত্বাবধানে চাষ ও গবেষণা করা হবে। যা পরবর্তীতে মালদ্বীপের মাটি ও জলবায়ুর সাথে উপযোগী প্রজাতি চিহ্নিত করে এসব প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হবে। পরে উৎপাদিত চারাগুলোও আমরা আবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করবো, যা মালদ্বীপের বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচিতে ব্যবহার হবে। 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও মিয়াঞ্জ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মধ্যে আলাপচারিতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় সৌদি আরবের আরাফাহ ময়দানে রোপণ করা নিমগাছের কথা উল্লেখ করে এসব গাছ ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত বলে জানান তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে সরবরাহ করা বীজ মালদ্বীপে গবেষণা ও চাষাবাদের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিভিন্ন স্থানে রোপণের পর এসব গাছকে প্রতীকীভাবে ‘তারেক জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত করারও প্রস্তাব করেন।