নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ইসিবি চত্বর সংলগ্ন ‘নিউ গিনি’ আবাসন প্রকল্পের প্রধান কার্যালয় এবং আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যৌথ অভিযানে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের মধ্যে শাহ আলম অনিক নামে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ’-এর এক স্থানীয় নেতা রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ডিএমপি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রোববার ডিবি ও ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি শাহ আলম অনিককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। তাকে বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন- মামুন, আসলাম, মুন্না ও শাহরিয়ার মাহমুদ। এ ছাড়া পুলিশ তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার অন্য এক ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি। পুলিশ জানায়, আসামিদের মধ্যে মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এবং আসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে; তারা উভয়েই ভাসানটেক বস্তি এলাকায় বসবাস করে পেশায় অটোরিকশাচালক। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, গ্রেফতারদের মধ্যে পাঁচজনই এজাহারভুক্ত আসামি এবং এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রের তথ্য মতে, গত শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে ইসিবি চত্বর এলাকার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও নির্দেশনায় ১৪০ থেকে ১৫০ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুরো স্থাপনায় ঢুকে।
হামলাকারীদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল। তারা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে প্রকল্পের প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় মূল ফটকে ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাঁচের দরজা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
ভবনে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা আবাসন প্রকল্পের মূল অফিসকক্ষে প্রবেশ করে এবং একই ভবনে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা অফিসের ভেতরে থাকা চারটি কম্পিউটার মনিটর, চারটি ডিডিআর, ফ্রিজ, সাতটি ল্যাপটপ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ভেঙে ফেলে।
হামলাকারীরা অফিস থেকে ২৫ লাখ টাকা, নির্মাণকাজের জন্য রাখা ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের রড এবং ভবনের সামনে রাখা এক ফ্ল্যাট মালিকের ৪ লাখ টাকা মূল্যের স্কুটারসহ মোট ৩৭ ধরনের মালামাল, টিভি ও সুনির্দিষ্ট ক্যামেরা সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরদিন রোববার নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।





