বগুড়া অফিস
বগুড়ায় নতুন জেলা ও দায়রা জজ প্রত্যাহার দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আইনজীবীদের আদালত বর্জনের ফলে বিচারিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোল ও স্লোগানের মুখে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যেতে বাধ্য হন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: মনিরুজ্জামান। এতে বিচার প্রার্থীরা বিচার না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে নবনিযুক্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: মনিরুজ্জামান বিচারকার্যক্রম শুরুর জন্য এজলাসে আসন গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি এজলাসে বসামাত্রই আন্দোলনকারী বার সমিতির সদস্যরা তীব্র হট্টগোল ও ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কোনো আইনজীবী মামলার শুনানিতে অংশ না নেয়ায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় মাত্র সাত মিনিটের মাথায় বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান বিচারক। পরবর্তীতে ডিবি ও থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ দিকে বার সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ
চারজনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বার সমিতি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য গোপন করে এলএলবি ডিগ্রির আবেদনের জন্য ২০১৭ সালে বার কাউন্সিল কর্তৃক জারি করা একটি শোকজ নোটিশের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আব্দুল ওহাব বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ছাত্র হিসেবে আইন পাস করে নিয়ম মেনেই সনদ ও লাইসেন্স পেয়েছি। ২০১৭ সালের সেই পুরনো মীমাংসিত বিষয় সামনে এনে রাজনৈতিক ও সামাজিক মানসম্মান ক্ষুণœ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার জজ নিয়োগ দেয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলাম।
আদালতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ জানান, বার ও বেঞ্চের সমন্বয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই পিপি হিসেবে তার মূল লক্ষ্য। কিছু অসত্য তথ্য ছড়ানো হলেও আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন জজ শূন্য থাকার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা জজ নিয়োগ হলেও ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া পদায়ন ঘিরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত বিচারপ্রার্থীরা বিচারসেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
বগুড়া জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন জেলা ও দায়রা জজের পদায়ন ও সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বার সমিতির সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়েছে। সাধারণ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী সমিতি অনড় অবস্থানে থাকবে।
প্রসঙ্গত, নতুন জেলা জজ মনিরুজ্জামানকে পদায়নের আগেই তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পদায়ন না করার জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর বগুড়া বার সিমিত স্মারকলিপি প্রদান করে। এর আগে আওয়ামী আমলে মনিরুজ্জামান বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালে বিএনপি নেতা মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলা বিচার কাজ বন্ধ রেখে প্রধান আসামি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে জামিন দেন। তাই ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার বিপ্লবের পর মনিরুজ্জামান ও তৎকালীন জেলা প্রত্যাহার দাবিতে আদালত কর্মচারীরা আন্দোলন করলে তাদের দু’জনকে সরকার প্রত্যাহার করে।





