নিজস্ব প্রতিবেদক

মশিউর সিকিউরিটিজের প্রতারণার শিকার হয়ে পুঁজি হারানো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গতকাল দ্বিতীয় দিনে ১২২ জনকে তিন কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত দু’দিনে ১৩৭ জন বিনিয়োগকারীর মাঝে তিন কোটি ৯৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ১৫ জন বিনিয়োগকারী প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে ৭৫ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। 
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা এবং ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন ফান্ডের (আইপিএফ) আওতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিনিয়োগকারীদের আত্মসাৎকৃত অর্থের যাচাইকৃত প্রাপ্য অর্থ ফেরত প্রদানের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চেক বিতরণ শুরু করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। 
সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত  বিরতিহীনভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আগামী দিনগুলোতেও একই সময়সূচি অনুযায়ী চেক বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের চেক সংগ্রহের তারিখ ও সময় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ডিএসইর পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়  ১৭ হাজার ৯২৫ জন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ তা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়। যাচাই বাছাইয়ের পর দেখা যায় এদের  মধ্যে ১৭ হাজার ৩৩২ জনের ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার নিচে। প্রাথমিকভাবে মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মোট ৯,৩৮৬ জন বিনিয়োগকারীর দাবির বিপরীতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মোট ৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পরিশোধ করবে পর্যায়ক্রমে একই আইনের আওতায় বাঙ্কো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কো. লিমিটেড, মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বাকি বড় বিনিয়োগকারীদের যাচাইকৃত দাবির অর্থও ফেরত প্রদান করা হবে। এদের জন্য আইপিএফ থেকে প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওনা থাকা অবশিষ্ট ৫৯৩ জন বিনিয়োগকারীর অর্থ আদায়ের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।