নিজস্ব প্রতিবেদক 

ঢাকার মাটিকাটা এলাকায় মিজানুর রহমানের গ্রেফতার এবং এ-সংক্রান্ত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: আবদুল গফুর। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়ানোর পাশাপাশি তাকে অন্যায়ভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। 
প্রতিবাদ বিবৃতিতে আবদুল গফুর বলেন, প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে যে মিজানুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ তথ্যকে পুরোপুরি কাল্পনিক ও অসত্য আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ঢাকার মাটিকাটায় তার নিজের কোনো বাসভবন নেই। তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারিভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত ‘ন্যাম ভবনে’ অবস্থান করেন। তথ্য যাচাই না করেই এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। 
ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আবদুল গফুর জানান, এটি মূলত একটি দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক দেনা-পাওনাসংক্রান্ত বিরোধ। মিজানুর রহমানের সাথে ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির কাছে তার পাওনা টাকা বকেয়া পড়ে। আইনানুগভাবে পাওনা আদায়ের তাগিদ দিলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাইফুল ইসলাম নানা কৌশল অবলম্বন করেন। পরে পাওনা আদায়ে মিজানুর রহমান থানায় মামলা করলে সাইফুল ইসলাম আংশিক টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা না দেয়ার জন্য পাল্টা মামলা করেন, যা পরে আদালত কর্তৃক মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে খারিজ হয়ে যায়। 
বিবৃতিতে কুষ্টিয়া-২ আসনের এই আইনপ্রণেতা দাবি করেন, সম্প্রতি সংঘটিত ভাঙচুর বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সাথে মিজানুর রহমানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না এবং এখনো নেই। ‘নিউ গ্রিন প্রোপার্টিজ’-এর মালিক সাইফুল ইসলাম নিজের অপকর্ম ও দেনা আড়াল করতে এবং বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই চক্রান্তের আশ্রয় নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। 
মিজানুর রহমানের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক লেনদেনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জীবনের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি লেনদেনের ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা এবং তাকে জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
বিবৃতিতে এমপি আবদুল গফুর সংশ্লিষ্ট সব গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একতরফা, অসম্পূর্ণ কিংবা যাচাই-বাছাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করে নিরপেক্ষ সত্য অনুসন্ধান করা উচিত। একই সাথে যেসব গণমাধ্যমে এই অসত্য ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে, তা দ্রুত সংশোধন করে বস্তুনিষ্ঠ ও প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জোর দাবি জানান তিনি।