মো: আজিজুল হক গাজীপুর
গাজীপুরের বাউপাড়া বিটে ২০ ধারায় গেজেটভুক্ত বনভূমি দখল করে একের পর এক ঘরবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় বন বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর বাধা দেয়া হয়নি। দখলদারদের বিরুদ্ধে বন মামলা বা উচ্ছেদ কার্যক্রম না হওয়ায় বনভূমি সুরক্ষা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাউপাড়া বিট গাজীপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের অধীন। চলতি বছরের ২১ মে ডেপুটি রেঞ্জার সরফরাজ হোসেন ভূঁইয়া এ বিটের দায়িত্ব নেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিটের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ সামনে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাউপাড়া বিটের রোজিনার চালা এলাকায় আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তি বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে বন মামলা হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলা বাজার সড়কসংলগ্ন বনভূমি দখল করে রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জঙ্গালিয়াপাড়া এলাকায়ও নতুন ও পুরনো দখলের চিত্র রয়েছে। গত বছর বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে কবির নামে এক ব্যক্তির বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি আবারো বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। একবার উচ্ছেদ হওয়া ব্যক্তির পুনরায় দখলে যাওয়ার ঘটনায়ও বন বিভাগের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গজারিয়াপাড়া এলাকায় বন বিভাগের উপকারভোগী সাইদুরের উডলট বাগানের প্লটে রেভা নামে এক নারী পুরনো বাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কক্ষ নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকায় শহিদুল ও জিয়া নামে দুই ব্যক্তি এবং আয়নাপাড়া এলাকায় রাশিদা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বনভূমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের শুরুতেই ব্যবস্থা নেয়া হলে বড় স্থাপনা গড়ে ওঠার সুযোগ কমে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় পরবর্তী সময়ে উচ্ছেদ জটিল হয়ে পড়ে।
এদিকে বাউপাড়া বিটে ডেপুটি রেঞ্জার সরফরাজ হোসেন ভূঁইয়ার পদায়ন নিয়েও বন বিভাগের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক টানাপড়েনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চলতি বছর ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে যোগদানের পর তাকে প্রথমে ভবানীপুর বিটে পদায়ন করা হয়। পরে ওই আদেশ বাতিল করে বাউপাড়া বিটে পদায়ন করা হয়। এ ঘটনায় বন সংরক্ষক ছানাউল্যাহ পাটওয়ারীর হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।
বন বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, জনবল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে দেয়া কয়েকটি বদলি আদেশ পরে বন সংরক্ষকের আদেশে বাতিল করা হয়। এতে মাঠপর্যায়ে কর্তৃত্ব ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন।
ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন। স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দায়িত্ব নেয়ার পর সাত মাসে গাজীপুরের বনাঞ্চলে দখলদারদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য উচ্ছেদ অভিযান দেখা যায়নি। নিয়মিত টহল ও নজরদারিও যথেষ্ট নয় বলে তাদের দাবি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বন সংরক্ষক ছানাউল্যাহ পাটওয়ারীর সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ডেপুটি রেঞ্জার সরফরাজ হোসেন ভূঁইয়ার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।





