লোহাগড়া (নড়াইল) সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়ায় দীর্ঘদিন যাত্রী ছাউনিতে মানবেতর জীবনযাপন করা তিন সন্তানের জননী হোসনেয়ারা খানমের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। তার অসহায়ত্বের বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে মাইটকুমড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বুধবার ওই নারীকে ঘরের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আড়িয়ারা এলাকার বাসিন্দা হোসনেয়ারা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপাশা যাত্রী ছাউনিতে দুই মেয়েকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ইউএনওর নজরে আসে। পরে তার খোঁজখবর নিয়ে তাৎণিকভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
ইউএনও মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই নারীর স্বামীর বাড়িতে তার যে অধিকার রয়েছে, সেটিও ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, কোথাও কোনো অসহায় মানুষকে দেখলে প্রশাসনকে জানানোর জন্য। জানা গেছে, ৩৮ বছর বয়সী হোসনেয়ারা বাগেরহাট সদর উপজেলার গোবরদিয়া গ্রামের  রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামী লোহাগড়ার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামের সুজন শেখ। তাদের তিন সন্তানÑ ইয়াসিন শেখ (১২), নুসরাত জাহান রাফি (৬) ও আয়শা আক্তার রাফি (২)। বড় ছেলে ইয়াসিন শামুকখোলা মাদরাসার নাজেরা বিভাগে পড়ছে এবং একটি এতিমখানায় থাকছে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন স্বামী স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ না দেয়ায় হোসনেয়ারা আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। একপর্যায়ে দুই মেয়েকে নিয়ে যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। নতুন ঘর ও খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হোসনেয়ারা। মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।