নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমন ও তার সহযোগীরা এ বর্বর হামলা চালায় বলে অভিযোগে জানা গেছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলাকারীদের অবরুদ্ধ করে তাদের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মূল অভিযুক্ত সাইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে আদালত সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
অনুসন্ধান ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বাংলামোটরে নিউ ইস্কাটন এলাকার গলিতে স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো: সোহানের (৪৫) পথরোধ করেন সাইমন ও তার সহযোগীরা। এ সময় সাইমন সরাসরি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সোহান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভয় দেখান এবং একপর্যায়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে সোহানের মাথা ফাঁটিয়ে রক্তাক্ত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাইমনের এসব অপকর্মের কারণে তাকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় একাধিক মাদক আইনের মামলা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার সময় গুলির শব্দ শুনে ও চাঁদার দাবিতে হামলার খবর পেয়ে স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা রূপায়ণ টাওয়ারের পেছনের গলিতে এবং সাইমনের বাসার সামনে জড়ো হয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ক্ষুব্ধ জনতা হামলাকারীদের একটি মোটরসাইকেল আটকে রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং হামলাকারীদের এক ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা (এসআরবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাইমনসহ চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর আহত সোহান বাদি হয়ে হাতিরঝিল থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাইমনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। হাতিরঝিল থানা-পুলিশ নিউ ইস্কাটন এলাকা থেকে সাইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার দেখায়। গ্রেফতার অন্য তিন আসামি হলো- ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো: শাওন (২৫)।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: নাসিম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। রিমান্ড শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের তদন্ত আবেদনে জানানো হয়, আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য এবং ঘটনার পেছনে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও অস্ত্র উদ্ধারের জন্যই এই রিমান্ড প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলামোটর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান।





