আবুল কালাম আজাদ বগুড়া 

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এখনো স্থান নির্ধারণ হয়নি। তাই প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে উপশহর হাউজিং এস্টেট এলাকার বেসরকারি মালিকানাধীন একটি ভাড়াবাসায়। এ ছাড়া চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তুতি  নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই  শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপশহর  এলাকায় আরো একটি  বহুতল ভবন ভাড়া করা হয়েছে। 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক সূত্র জানায়, চলতি  বছরই  বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হয়েছে। ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন  জাতীয় সংসদে তৎকালীন সরকারের সময় পাস হলেও  তা অকার্যকর ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র- জনতার বিপ্লবের জন্য গঠিত ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করেন। সে লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: কুদরত ই জাহানকে ভিসি নিয়োগ করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপশহর এলাকায় একটি দ্বিতল বাসা ভাড়া করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সংসদে আইন পরিবর্তন করে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬ পাস করে; কিন্তু নানা কারনে এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্ত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রমও  শুরু হয়নি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে উপশহর এলাকায় একটি বহুতল ভবন ভাড়া করা হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) পূর্ণাঙ্গ সিন্ডিকেট গঠনে কাজ করছে ও কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তুতি চলছে। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বগুড়া-সহ ২৩টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে ভর্তি করবে। 
সার্বিক বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. কুদরত ই জাহানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রসিভি করেননি। তবে ভিসির পিএস মো: মোস্তফা ফয়সাল বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ক্লাস-পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরো বলেন, ইউজিসি এখনো কয়টি বিভাগের কার্যক্রম চলবে তা অনুমোদন দেয়নি। এ ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী ক্যম্পাসের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যম্পাসের জায়গা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয়  বিএনপির নেতাকর্মী, সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সবাই বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জেলার শাজাহানপুর উপজেলার ৯ মাইল জামালপুর, সদরের শাখারিয়া এলাকা, শিবগঞ্জের মহাস্থান এলাকা আলোচনায় এসেেছ।