ক্রীড়া প্রতিবেদক
তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম। বিপরীতে দুই গোল দেয়া। এই ব্যর্থতা নিয়েই প্রথম আসিয়ান কাপ শেষ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ব্রাজিলের সাথে ম্যাচ খেলার জন্য ভারত নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় সুযোগ হয় বাংলাদেশের। নভেম্বরের সাফ ফুটবলের জন্য এই আসরকে প্রস্তুতি হিসেবেই দেখেছিলেন কোচ টমাস ডুলি। তবে লাল-সবুজদের অভিজ্ঞতা যে এতটা তিক্ত হবে তা ধারণাতেই ছিল না। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২-৯ গোলে হারটা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে সাফে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনকে। ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের সাফ ফুটবল। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য আলফাজ আহমেদের মতে, ‘ভারত ও পাকিস্তান দল এখন যেভাবে শক্তিশালী অবস্থায় আছে তাকে বাংলাদেশের সাফে শিরোপা পুনরুদ্ধার করাটা দুরূহ ব্যাপার।’ সে সাথে তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজমের জন্য ফুটবলারদের ফিটনেসের ঘাটতিকে দায়ী করলেন মোহামেডানের সাবেক এই কোচ। তিনি অবশ্য কোনোভাবেই এই বাজে হারের জন্য কোচ টমাস ডুলিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন না।
আলফাজ জানান, আমাদের ফুটবলাররা আনফিট অবস্থায় আসিয়ান কাপে খেলতে গেছে। যেখানে প্রতিপক্ষরা হাই র্যাংকিং এবং শক্তিশালী। ফলে দুই ম্যাচ খেলার পর তারা আর দ্বিতীয় ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেনি। আনফিট শরীর আর চলছিল না। ফলে মার্কিং করার জন্য যেতে পারেনি। তাই ইন্দোনেশিয়া এভাবে গোলউৎসবে মেতেছে।
ফুটবলারদের ফিটনেসের ঘাটতির জন্য তাদের দিকেই তীর ছুড়ছেন ১৯৯৯-এর সাফ গেমস ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে গোল করা এই স্ট্রাইকার। তার মতে, ‘লিগের পর এই ফুটবলাররা খেলার বাইরে ছিল। তারা বিভিন্ন স্থানে খ্যাপ খেলে বেড়িয়েছে। ফিটনেসের দিকে কোনো নজরই দেয়নি। ফলে তিনটি প্রতিযোগিতামূলক টাফ ম্যাচ খেলতে গিয়ে তারা কুলিয়ে উঠতে ব্যর্থ।’ আলফাজের মতে, এই ফিটনেস ধরে রাখাটাতো ফুটবলারদের কর্তব্য। তারা জাতীয় দলে খেলবে অথচ দেশের তারকা ফুটবলার হয়েও তারা ফিটনেস ধরে রাখবে না এটাতো ঠিক নয়।
২০০৩ সালের সাফে প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে গোল করা আলফাজ আরো জানান, কোচ ডুলিতো মনে করেছিলেন ফুটবলারা সবাই ফিট; কিন্তু মাঠে দেখলেন বিপরীত চিত্র। তা ছাড়া কোচ সব ফুটবলারকে আগে থেকে দেখেনি। আসিয়ান কাপে খেলা দলে জিদান ইউসুফ, শুকি ইতোফুসা এবং ফারহান আলী ওয়াহেদ এই তিন নতুন প্রবাসী ফুটবলার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ারও সমস্যা হয়েছে। একই সাথে ডিফেন্স লাইনে ফিটনেস ঘাটতি দলের এই ব্যর্থতার নেপথ্যে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যখন ২০০৩ সালে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম তখন আমাদের সেই জাতীয় দল দুই বছর ধরে একত্রে ছিলাম। সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে ১৯৯৯ সালের সাফ গেমস ফুটবলে শিরোপা জয় করেছিলাম। সে বছরই সাফ ফুটবলে রানার্সআপ। এতে আমাদের পুরো দলের মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার।’
বর্তমান বাংলাদেশ দলে স্ট্রাইকার সঙ্কট প্রকট। কোচ ডুলি প্রথম থেকেই এই কথা বলে আসছিলেন। সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদের মুখেও সেই সুর। ‘বর্তমান জাতীয় দলেতো স্ট্রাইকারই নেই। গোলটা করবে কে। রাকিবকে দেখলাম বল নিয়ে উইং দিয়ে ঢুকলেন। অথচ বক্সে কাকে বল দেবেন। স্ট্রাইকার কাউকেই খুঁজে পেলেন না’।
দায়িত্ব নিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে টানা হার। ফলে সমালোচনার মুখে কোচ ডুলিও। এখন তার হাতে সময় এক মাস। তবে এই সময়েও তিনি ফুটবলারদের কাছে পাচ্ছেন না। গতকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে লিগ। দেশে ফিরেই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের চলে যেতে হবে যার যার ক্যাম্পে। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে লিগ। এরপর কোচ ১০ দিনের জন্য খেলোয়াড়দের পাবেন। ওই সময়ে কোচের পক্ষে দলকে সাফের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা কতটা সম্ভব হবে সেটিই প্রশ্ন।





