নাসিরুল ইসলাম শ্রীপুর (মাগুরা)
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরো প্রায় ২০ একর জমি ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাকি অংশও ভেঙে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে কোদলা গ্রামের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দী হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কোদলা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী মোকাররম আলী বলেন, ‘নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। আমাদের এলাকার অনেকের জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। বাঁধ আর কিছুটা ভাঙলে আমাদের বাঁচার উপায় থাকবে না।’
গ্রামের অনিতা রানী বলেন, ‘বিয়ের পর ৩৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। একসময় এই এলাকায় মানুষ চাষাবাদ করত, গরু-ছাগল পালন করত, ছেলেরা মাঠে খেলত। সেসব জায়গার অনেকটাই এখন নদীর মধ্যে চলে গেছে।’
নাসিমা বেগম বলেন, ‘রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না। সব সময় আতঙ্কে থাকি, কখন নদী আমাদের বাড়িঘর ভাসিয়ে নেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে অনেকে ফসলি জমি হারিয়েছেন। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে আরো জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বেড়িবাঁধ সংস্কার ও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, ‘আমলসার ইউনিয়নের কোদলা এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। সেখানে কাজের অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’