করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের শাল্লায় কৃষক কার্ড বিতরণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে শাল্লা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Shalla1

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনবান্ধব সরকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকার পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড সহায়তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি এবং প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছি। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু দেশের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ একদফা দিয়ে এবং দেশের বাইরে থেকে উসকানি দিয়ে আমাদের কাজে বাধা দেয়ার পাশাপাশি দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমাদের নির্বাচনী ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছিল, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল, তাদের মানুষ দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। আমরা বিএনপি সরকার পুনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো: মিনহাজুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দিরাই-শাল্লা সার্কেল) হুমায়ুন কবির, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কৃষি কার্ডের উপকারভোগী ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে বাহাড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উপস্থিত ১০০ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। একই সাথে কৃষি উপকরণ সহায়তার অর্থ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

কৃষি সহায়তা পাওয়া প্রান্তিক কৃষক অমল সরকার ও রাসমোহন দাস বলেন, ‘কৃষি সহায়তা হিসেবে আমাদের মোবাইলে ২ হাজার ৫০০ টাকা এসেছে। এই টাকা পেয়ে আমরা আনন্দিত। সরকার আমাদের মতো গরিব কৃষকদের এভাবে সহযোগিতা করলে আমরা উপকৃত হব।’