মো: জুলফিকার আলী পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
তরমুজ মানেই গ্রীষ্মকালে ধারণা বদলে দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বর্ষা ও শরৎ মৌসুমেও তরমুজ চাষ করছেন কৃষকরা। আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অসময়ের এ চাষে মাত্র দুই মাসে ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। অনুকূল আবহাওয়া, মাটির উপযোগিতা ও ভালো বাজারদাম মিলিয়ে তরমুজ এখন অনেকের কাছে স্বল্পমেয়াদি লাভজনক ফসলের বিকল্প হয়ে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেন। গত বছর উপজেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে এ আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ১৫০ একরে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
উপজেলার দানাজপুর গণেশ ফার্ম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমিতে সারি সারি তরমুজগাছ। কোথাও গাছে ঝুলছে পরিপক্ব ফল, কোথাও কৃষকরা ব্যস্ত পরিচর্যায়। ক্ষেতেই তরমুজ কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। এতে উৎপাদনের পর বাজারজাত ও পরিবহনের বাড়তি ঝামেলাও কমেছে কৃষকদের।
কৃষক কাদের জানান, কয়েক বছর ধরে সেতাবগঞ্জ চিনিকলের জমি লিজ নিয়ে অসময়ের তরমুজ চাষ করছেন তিনি। এবার প্রায় ছয় বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররা ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি প্রায় ৩০ টাকা দরে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।
চাষি জহিরুল ইসলাম ও রজব আলী জানান, গণেশ ফার্মে এবার প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে, গত বছর যা ছিল প্রায় ১০০ বিঘা। তাদের হিসাবে, প্রতি বিঘায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘা থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি করা সম্ভব।
কৃষকদের কাছে এ চাষের বড় আকর্ষণ হলো স্বল্প উৎপাদনকাল। অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় তরমুজে দ্রুত ফলন পাওয়া যায়। ফলে একই জমিতে তুলনামূলক কম সময়ে বিনিয়োগ তুলে লাভের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা কিনে নেওয়ায় বাজারজাতের ঝুঁকিও কম।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, তরমুজ চাষের প্রচলিত সময় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল। তবে কয়েক বছর ধরে কৃষকরা আগস্ট-অক্টোবরেও এ চাষ করছেন। পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় অসময়ের তরমুজেও ভালো ফলন ও স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকদের এ চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফলন কমতে পারে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের চাষাবাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষকদের অভিজ্ঞতা ও আবাদ বৃদ্ধির পরিসংখ্যান বলছে, প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ চাষ পীরগঞ্জের কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ে ফলন ও তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার এই সুযোগ আগামীতে আরো কৃষককে অসময়ের তরমুজ চাষে যুক্ত করতে পারে।