দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়–ইকুড়ি মরারচর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর প্রায় ৫০টি বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আতঙ্কে এলাকার অনেক পুরুষ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পটল গ্রুপ ও আজাদ বিশ্বাস গ্রুপের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। এতে পটল গ্রুপের প্রধানের ভাই গোলাম মোস্তফা ওরফে টেংগর (৬০) নিহত হন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
নতুনচরের বাসিন্দা টনি বিশ্বাসসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সংঘর্ষের পর প্রায় ২৫-৩০ জনের একটি দল বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তাদের অভিযোগ, শুক্রবার দিন ও রাতেও চড়–ইকুড়ি নতুনচর ও নিচপাড়া এলাকায় কয়েক দফা হামলা হয়। এতে ৪০-৫০টি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গরু-ছাগল, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, ধান-চালসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল লুট হয়েছে। কয়েকটি বাড়ির নারী সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন তারা। এ ঘটনায় আতঙ্কে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। শনিবারও কিছু ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরু-ছাগল ও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, টেংগর নিহত হওয়ার পর নতুনচর এলাকায় প্রায় ৫০টি বাড়িতে লুটপাট হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পটল ও তার ছেলে মাসুমসহ কয়েকজন বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে মোটরসাইকেল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন।
তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত শাহজামাল নামে একজনকে আটক করেছে। লুটপাটের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি জোড়া গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যরা আটক করে ক্যাম্পে রেখেছেন। বর্তমানে মরারচর এলাকায় বিজিবি মোতায়েন রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি টহল দিচ্ছে। এ দিকে সংঘর্ষ ও পরবর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়ুইকুড়ি মরারচর ও নিচপাড়া এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সংঘর্ষের সাথে জড়িতদের পাশাপাশি লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।



