খান জাহান আলী চৌধুরী নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুই যুবক জুবায়েরুল ইসলাম ও রুবেল মিয়ার। নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ পেরিয়ে তারা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তও হন। তবে নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পর তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। কেন চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও চাকরি হলো না- এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন দফতরে দফতরে ঘুরছেন তারা। 
দুই প্রার্থীর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। এর পরও কী কারণে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। 
নবীনগরের সাতঘরহাটি গ্রামের রুবেল মিয়া (৩১) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা কৃষক। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় সরকারি চাকরিকে ভবিষ্যতের অবলম্বন হিসেবে দেখেছিলেন তিনি। চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও এলাকার মানুষকে চাকরি হওয়ার খবরও জানিয়েছিলেন। পরে নিয়োগ না হওয়ায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানান তিনি। রুবেল বলেন, কেন আমার নিয়োগ আটকে আছে, তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাই। 
অন্য দিকে নবীনগর পৌর এলাকার কলেজপাড়ার জুবায়েরুল ইসলামও (৩১) একই নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তার দাবি, পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ নিয়োগের সব ধাপ সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন। জুবায়েরুল বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ বা অপবাদ দিতে চাই না। শুধু জানতে চাই, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আমাকে কেন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হলো। কোনো ভুল বা অযোগ্যতা থাকলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হোক। 
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান বলেন, এবারের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জেলায় ভেরিফিকেশনে দু’জন বাদ পড়েছেন।