নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে; কিন্তু আজ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হচ্ছে না; বরং মেজর আখতারুজ্জামানের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিরা গ্রেফতার হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চল এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বাংলামোটর মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।
তিনি বলেন, এ বিক্ষোভ সমাবেশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি করতে আর কাউকে দেবো না। এ আন্দোলনকে থামানো যাবে না। আমরা না থাকলেও আমাদের লোকেরা বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে এ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি অবিলম্বে সব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সাইফুল আলম খান বলেন, বাংলামোটরে যাদের মারা হয়েছে তারা কোনো দল করে না। তাহলে তাদের কেন মারা হলো, আমরা তা জানতে চাই। বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করেই ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।
দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেন, সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সার, বিদ্যুৎ ও জনগণের সমস্যা সমাধানেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। যারা বলেছিল মদিনার সনদে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তারা এখন কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন করছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা উল্টাপাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের এমপিরাই আজ রাড্ডার স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে। তাদের পদত্যাগ করিয়ে চুপ থাকলেই হবে না, আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। মিরপুরের রাড্ডার ঘটনা আড়াল করতে মেজর আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদ, অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান, ইউসুফ আলী মোল্লা, নুরুল ইসলাম আকন্দ, কলিম উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, আবু সাঈদ মণ্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।