নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) রিএজেন্ট ক্রয় নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে নিজের নাম ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যকে ‘অসত্য ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহেদ আনোয়ার।
গত ৪ অক্টোবর নয়া দিগন্তে ‘বিএমইউতে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই চড়াদামে রিএজেন্ট কিনে লুটপাট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে তিনি এ বক্তব্য দেন।
প্রতিবাদপত্রে ডা. শাহেদ আনোয়ার বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার নাম ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রকাশিত কিছু তথ্য বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় দাবি করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যে তিনি এ ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রথমত, প্রতিবেদনে তার সাথে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি কখনোই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য ছিলেন না। ফলে ওই সংগঠনের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক নথি যাচাই করে বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে তাকে বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সভাপতি বা চেয়ারপারসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে- দাবি করে ডা. শাহেদ আনোয়ার বলেন, তথ্যটি সঠিক নয়। তিনি কখনো কোনো ক্রয় কমিটির সভাপতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে ছিলেন না।
তিনি বলেন, তিনি কেবল সংশ্লিষ্ট কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই কমিটিতে তার ভূমিকা ছিল প্রয়োজন অনুযায়ী মতামত ও পেশাগত পর্যবেক্ষণ প্রদান করা। কোনো ক্রয় অনুমোদন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা ক্রয়সংক্রান্ত কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে তার কোনো একক বা নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না।
প্রতিবাদপত্রে তিনি আরো বলেন, কোনো কমিটির সদস্য হওয়া মানেই ওই কমিটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকা নয়। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও বিধি অনুযায়ী ক্রয়সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব নির্ধারিত অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত থাকে।
ডা. শাহেদ আনোয়ার দাবি করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং তার পেশাগত সুনাম ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার স্বার্থে তার প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যাটি পত্রিকায় প্রকাশের অনুরোধ জানান তিনি।  
প্রতিবেদকের বক্তব্য :  তিনি নিজেই প্রতিবাদে বলেছেন, ‘প্রতিবেদনে প্রকাশিত কিছু বক্তব্য বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ তার মানে কিছু বাদে সবই সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সত্য এটা তিনিই স্বীকার করে নিলেন। তিনি স্বাচিপের আজীবন সদস্য হিসেবে প্রতিবেদনে যে অভিহিত করা হয়েছে, এই তথ্যটি হয়তো ভুল হতে পারে। তা যাচাই করতেই তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি কোনো কথাই বলতে রাজী হননি। তবে তার প্রতিবাদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি স্বাচিপের আজীবন নন বললেও তিনি যে স্বাচিপ সদস্য সেটা স্বীকার করেছেন। সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সাথে তার রয়েছে ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবি। সাধারণ কেউ একজন স্পিকারের কাছে ঘেঁষতে পারারও কথা নয়। এ ছাড়া নয়া দিগেন্তর প্রতিবেদনে তাকে বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সভাপতি/চেয়ারপারসন বলে কোথাও লেখা হয়নি।  অন্যদিকে একজন ল্যাব অ্যাটেনডেন্টকে ল্যাব ম্যানেজার করেছেন সেই বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এ বিষয়ে নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন সঠিক বলেই তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।