গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত টঙ্গীর শ্রমিক নেতা নূরুল আমীন দীর্ঘ ২১ বছর ৮ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্ত হন। কারাফটকে বের হওয়ার পর সমর্থক, স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
কারা সূত্র জানায়, জেল কোডের ৫৬৯ ধারার আওতায় রেমিশন (রেয়াদ) সুবিধায় তিনি মুক্তি পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩০ বছর হলেও কারাবিধি অনুযায়ী তিনি সাড়ে ৭ বছরের রেয়াদ সুবিধা পান। একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি মোহাম্মদ আলীর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন সাপেক্ষে আজ বুধবার মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
নূরুল আমীনের মুক্তির ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রায় ২২ বছর ধরে চলা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা। ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। ২০০৫ সালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন দেন। ২০১৬ সালে হাইকোর্ট ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখেন, যার মধ্যে নূরুল আমীনও ছিলেন। ১১ জন খালাস পান। পরবর্তীতে আসামিরা আপিল করলে চলতি বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। বর্তমানে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
এ দিকে নূরুল আমীনের মুক্তিকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাতিজা ও টঙ্গী থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো: আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, দলীয় কোন্দলের কারণে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন জনপ্রিয় যুবদল নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারসহ বিএনপি পরিবারের নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে আসামি করা হয়েছিল। এতে মূল অপরাধীরা আড়ালে পড়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।