খুলনার কয়রা উপজেলায় চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় মুনছুর আলী নামের এক ব্যবসায়ীর পা ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীকে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব নুরুল আমিন বাবুল দলবল নিয়ে কয়রা বাজারের কপোতাক্ষ কলেজের সামনে এসে বাজারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মালিক মনিরুজ্জামানকে ডেকে নেন। সেখানে উভয়ের মধ্য কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের ওপর চড়াও হন। দুজনের হাতাহাতিতে বিএনপি নেতা রবিউল আহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপির অফিস থেকে আরো অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী এসে মনিরুজ্জামানকে মারধর শুরু করে। তাকে বাঁচাতে তার চাচা ব্যবসায়ী মুনছুর আলী, চাচাতো ভাই আল মামুন, ভাই মিলন এগিয়ে আসেন। এ সময় তাদেরও বেধড়ক মারধর করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। হামলায় মুনছুর আলীর পা ভেঙে যায়। এ ছাড়া আল মামুন ও মিলন গুরুতর আহত হন।
ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলামের নেতৃত্বে কালনা মাদ্রাসা মাঠে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমি কেন সেখানে গিয়েছিলাম এ বিষয় নিয়ে কয়রা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব নুরুল আমিন বাবুল আমাকে শাসান। বৃহস্পতিবার সকালে ওই বিষয় নিয়ে আমাকে ফোনে হুমকি দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, যদি তুই আর মোমরেজ সাহেবের সাথে রাজনীতি করিস তাহলে কয়রা বাজারে ব্যবসা করতে পারবি না। ব্যবসা করতে চাইলে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। এটার প্রতিবাদ করায় তার লোকজন নিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পাশাপাশি পাঁচটা দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালান।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাবুল বলেন, জলিল শেখ ও আয়ুব ঢালীর সাথে জমাজমি ও টাকা নিয়ে মনিরুজ্জামানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তা নিয়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মীমাংসা বৈঠকে বসার কথা ছিল। কিন্তু মনিরুজ্জামানরা হাজির না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়। পরে আমি ওই স্থান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কপোতাক্ষ কলেজের সামনে জড়ো হন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হলে উভয়পক্ষের মধ্য মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) মো: শাহ-আলম বলেন, দুপুরে কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সামনে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো অভিযোগ পায়নি।