- ১০০ টন খড় ও ৫০ একর জমির ঘাস নষ্ট
- ৫০ হাজার গবাদি পশুর খাদ্যসঙ্কট রয়েছে

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় গো-খাদ্যের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা।
মিরসরাই প্রাণিসম্পদ অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ছোট-বড় প্রায় ২০০ ডেইরি খামার রয়েছে। এবারের বন্যায় প্রায় সব খামারি চাষ করা ঘাস পচে গেছে। ফলে প্রায় ৫০ হাজার পশু খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। গত ২১ আগস্ট থেকে ফেনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। এতে পানিবন্দী হয়েছিল দুই লাখ মানুষ। বন্যায় মারা গেছে গরু, মহিষ, ছাগলসহ শতাধিক পশু। পানিতে পচে গেছে প্রায় ১০০ টন শুকনো খড় ও ৫০ একর জমিতে চাষ করা নেপিয়ার ঘাস। বর্তমানে খাদ্যের অভাবে অসংখ্য পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গবাদি পশুর খাদ্য সঙ্কটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক খামারি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওচমানপুর, ইছাখালী, কাটাছরা, দুর্গাপুর, মিঠানালাসহ ১১টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ১০দিন ধরে গলাসমান পানি থাকায় শুকনো সব খড়ের গাদা পচে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন খামারির চাষ করা প্রায় ৫০ একর জমির ঘাসও পচে গেছে।
খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কৃষক ভুট্টু বলেন, এবারের বন্যায় পানি যেমন উঠছে, তেমনি আবার পানি দীর্ঘদিন থাকায় গরুর ঘাস পচে গেছে। দুই কিলোমিটার দূরে রেললাইনের পাশ থেকে কিছুটা ঘাস নিয়ে এসে কিছুটা চাহিদা মেটানো হচ্ছে।
আনোয়ার ডেইরি এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার বলেন, আমার খামারে অর্ধশত গরু রয়েছে। এসব গরুর জন্য প্রায় দুই একর জমিতে ঘাসের চাষ করা হয়। এবারের বন্যায় পানির নিচে সব ঘাস পচে গেছে। এখন গরুর খাদ্য নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছি।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ার এলাকার কৃষক জানে আলম বলেন, ‘অভাবের সংসারে কষ্ট করে হলেও দুটি গরু পালন করে আসছিলাম। জমিতেই জুটতো গরু খাবার। বন্যায় পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে সব ঘাস পচে গেছে। এখন আশপাশে ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না, দু’ কিলোমিটার দূর থেকে গরুর জন্য ঘাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’
আজমনগর এলাকার ইকবাল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে বেশির ভাগ গো-চারণভূমি তলিয়ে গেছে। ফলে বাজার থেকে চড়ামূল্যে শুকনো খাবার কিনে গবাদিপশু পালনের ক্ষমতা অনেকের নেই। সে কারণে প্রতিদিন নিজেদের খাবার না জুটলেও গবাদিপশুর খাদ্য জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক মো: শিপন বলেন, একটা গাভি ও একটা বাছুর লালনপালন করেছি। বন্যার কারণে সব খড় নষ্ট হয়ে গেছে। ভাতের মাড় ও অল্প কিছু ভুসি মিশিয়ে খাওয়াচ্ছি। কিন্তু কাঁচাখাদ্য না থাকায় দিনদিন গরু শুকিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: জাকিরুল ফরিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব ইউনিয়নের খামারি ও কৃষকদের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদিপশুর বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার গবাদিপশুর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।