বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। নিহতদের নাম সরকারি খাতায় উঠলেও আহতদের খবর রাখে না কেউ। আহতদের কেউ হারিয়েছেন চোখ। কেউ হয়েছেন পঙ্গু। আবার কেউ কেউ শরীরে গুলি নিয়ে আজো কাতরাচ্ছেন। সরকারি সুদৃষ্টি চান ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত আহতরা।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়ে কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের আলী হোসেন (৪০) রাজধানীর উত্তরায় গত ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তিনি ছিলেন পান সিগারেট বিক্রেতা। গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অতর্কিত হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন উপজেলার পিজাহাতী গ্রামের তোফাজ্জল (২৩)। তিনি শ্রীপুরের আরএকে সিরামিক্সে চাকরি করতেন। গাজীপুরের বাসনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান উপজেলার ভুঁইয়াপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে জিন্নতুল ইসলাম খোকন(৩০)। তিনি ছিলেন তরকারি বিক্রেতা।

এদিকে ঢাকার উত্তরার রাজপথে ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের শেখ এনামুল হক এনাম (২৬)। ডান উরুতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ। নরসিংদীর মাদবদী পৌর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন উপজেলার রাজনগর বস্তিপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলীর ছেলে সোহাগ আহমদ (২৩)। সেখানে তিনি একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করতেন। ১৮ জুলাই আন্দোলনে ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অনেকগুলো ছররা গুলি লাগে। উপজেলার পাতাইরকোনা গ্রামের মুকসুদ আলীর ছেলে কুষক আলমগীর মিয়া (৩২) ১৯ জুলাই নরসিংদির শিবপুরে গুলিতে মারাত্মক ভাবে আহত হন। উপজেলার জালালপুর গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে আশরাফুল ইসলাম জাসাম (২১)। তিনি একজন ছাত্র। ২৮ জুলাই কাকরাইলে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। বাম চোখে গুলি লাগে তার। এখন চোখে দেখতে পান না তিনি।

বীরমহুরী গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে আ: রাহিম (১৬)। গত ২১ জুলাই নরসিংদীর বাবুর হাটে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তার পিঠের বামপাশে গুলি লেগে সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায়। নরসিংদীতে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। চাকরির খোঁজে ঢাকায় গিয়ে উপজেলার সুন্দ্রাকান্দা গ্রামের আ: করিমের ছেলে সাইফুল্লাহ আহমেদ সুমন (২৮) রাজধানীর মালিবাগ খিলগাঁও রোডে ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন। চোখ, মাথাসহ তার শরীরে পয়ত্রিশটি বুলেট বিদ্ধ হয়। তার চোখের অবস্থা ভালো না। উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আ: হামিদের ছেলে রুবেল মিয়া (২৭)। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় রিকশা চালাতেন তিনি। ২১ জুলাই আন্দোলনকালে ডান চোখে গুলি লাগে তার। অবশেষে অপারেশন করে ডান চোখটি তুলে ফেলতে হয়েছে তার।
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, ইতোমধ্যে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। নিহতদের তালিকা উচ্চমহলে পাটানো হয়েছে। তবে আহতদের ব্যাপারে আমার নিকট এখনো কোনো তথ্য নেই।