খুলনার কয়রায় ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলা ও গুলিতে আহত ফারুক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার কয়রা উপজেলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ৫ নং কয়রা গ্রামের আব্দুল বারী শেখের ছেলে ফারুক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারুক হোসেন বলেন, আমি একজন জেলে। শৈশব থেকেই আমি বাবার সাথে মাছ ধরে কয়রা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতি দিনের মতো ২০১৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে কয়রার দেওলিয়া বাজারে বিক্রি করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পথে সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছলে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পাই।

আমি ভয়ে একটি দোকানের আড়ালে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করি পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন জামায়াতের মিছিলে গুলি ও লাঠি দিয়ে হামলা করছে। এই সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আমাকে দেখে জামাত শিবির বলে ধর ধর বলে উঠে এবং আমার বুকে গুলি করে। আমি তখন অজ্ঞান হয়ে যাই এবং জ্ঞান ফিরে দেখি আমি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছি।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা করতে গিয়ে আমার ভিটাবাড়ি ও অর্থসম্পদ হারিয়ে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের ভয়ে এত দিন মুখ খুলতে পারিনি। বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হওয়ায় বর্তমান সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।