চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে ভাঙন প্রতিরোধে নেয়া টেকসই প্রকল্পগুলোর কোনো নড়াচড়া নেই। সে কারণে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূল। বিশেষ করে সাগর উপকূল এবং কর্ণফুলী ও শঙ্খ নদীর তীরবর্তী বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা, ছনুয়া, সরল, বাহারছড়া, শেখেরখিল, খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়ন, আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর, জুঁইদণ্ডি ইউনিয়ন, চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছরি চিরিঙ্গঘাটা, দোহাজারী, বৈলতলী বরমা ইউনিয়ন, পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাইশ, শোভনদণ্ডী, ভাটিখাইন ইউনিয়ন বিপদের মুখে রয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাগর উপকূল ও নদী-খালের তীরবর্তী এলাকাগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে এসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি, শত শত একর ফসলের মাঠ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাট হাট-বাজার স্কুল-মাদরাসা মসজিদসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে রয়েছে।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয় দক্ষিণ চট্টগ্রাম। এতে হাজার হাজার একর বসতবাড়ি বিধ্বস্ত ও প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়। এ ছাড়া শত শত কিলোমিটার রাস্তাঘাট, সড়ক সেতু কালভার্ট বিনষ্ট হয়, হাজার হাজার একর ফসলের জমি নদী ও সাগরের গর্ভে বিলীন হয়। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময়ে নদী ও সাগর উপকূল প্রতিরক্ষা ও শত শত কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড পটিয়া চন্দনাইশ, সাতকানিয়া লোহাগাড়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সাগর উপকূল সুরক্ষায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রটেক্টিভ ওয়ার্ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। সাগর ও নদীর সিংহভাগ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড অবশিষ্ট অরক্ষিত অংশ সুরক্ষায় বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী উপজেলার ভাঙন প্রতিরোধে পৃথক পৃথক প্রকল্প প্রণয়ন করলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার অবশিষ্ট অরক্ষিত অংশ সুরক্ষায় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বোয়ালখালী উপজেলার চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে বোয়ালখালী সুরক্ষায় ১৩৪ কোটি ৯ লাখ টাকাসহ মোট ১ হাজার ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পৃথক প্রকল্প প্রণয়ণ করে। এসব প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী আনোয়ারা টেকসই সুরক্ষা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ফোল্ডার নম্বর ৬৪/১এ ৩.৬১০ কিলোমিটার ৬৪/১সি ২.৮০০ কিলোমিটার ও ৬৩/১এ ৫.১৭৫ কিলোমিটারের ঢাল পুর্নাকৃতিকরণ ও সংরক্ষণ কাজ এবং ফোল্ডার নম্বর ৬৪/১এ ১.১০০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ। অপরদিকে বোয়ালখালী সুরক্ষায় ১০প্যাকেজে রয়েছে ৬.৫১৫ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ রয়েছে। বর্তমানে চলমান কাজের মধ্যে আনোয়ারা উপকূল থেকে নগরীর পতেঙ্গা পর্যন্ত সুরক্ষায় ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা পার্কি সমুদ্র সৈকত ও রায়পুর ইউনিয়ন সুরক্ষার কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। অপরদিকে বাঁশখালী সুরক্ষায় ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার টাকায় ৩৬ প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ওই দুই উপজেলার সমাপ্ত কাজ ও চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে নদী-সাগর উপকূল ও তীর এবং অভ্যন্তরীণ খাল-নদীর ভফুন ঠেকাতে (আনোয়ারার রায়পুর ও জুইদণ্ডির অংশসহ) নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয় বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তানজির আহমেদ সাইফ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন ১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাঈদ জানান, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার নদী ও সাগরতীর সুরক্ষায় গৃহীত প্রকল্পের কাজ খুব দ্রুত শুরু হচ্ছে। অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙ্গামাটি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, বোয়ালখালী উপজেলা সুরক্ষা কাজও শীঘ্রই শুরু হচ্ছে।