ভোলায় একটি চক্র হলুদ মরিচের গুঁড়ায় করাতকলের কাঠের মিহি গুঁড়া ও বিষাক্ত রঙ অবৈধভাবে বাজারজাত করে আসছে। জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে রেখে এমন কর্মকাণ্ড করলেও সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকি না থাকায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে এ চক্রের সদস্যরা।
গত শনিবার ভোলার খালপাড় সড়কের মাকসুদের হলুদ মরিচের দোকানে বিষাক্ত রঙ মেশানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি ভোক্তা অধিদফতরকে অবগত করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া খেয়ে মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলার খালপাড় সড়কে আকাশের সেলুনের দোকানের উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত দোকান মালিক মাকসুদের ছোট ভাই হলুদ মরিচের গুঁড়ায় বিষাক্ত রঙ মেশানের সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ওই সাংবাদিক জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিষয়টি একাধিকবার জানালেও তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। পরে দোকানদার মাকসুদ ও তার ভাই দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দোকান মালিক মাকসুদের বড় ভাই মোহাম্মদ মামুন বলেন, খবর পেয়ে দোকানে এসে ঘটনা স¤পর্কে জেনেছি ও ভিডিওটি দেখেছি। আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় দোকানে তেমন সময় দিতে পারিনি। ফলে আমার ছোট ভাই এ কাজ করেছে, যা আমাদের জানার বাইরে। এটা অন্যায়, তবে আর এ ধরনের কাজ হবে না। আমরা এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি।
স্থানীয়রা জানায়, শহরের খালপাড় সড়কের এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী হলুদ ও মরিচের গুঁড়ার সাথে প্রকাশ্যে করাতকলের কাঠের মিহি গুঁড়া ও বিষাক্ত রঙ মিশিয়ে আমাদের খাওয়াচ্ছে। ভোক্তা অধিকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ম্যানেজ করেই তারা এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভেজালমুক্ত প্রতি কেজি হলুদের গুঁড়া পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। যা খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। সেখানে ভেজাল হলুদের গুঁড়া পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে, খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়। অপরদিকে ভেজালমুক্ত প্রতি কেজি মরিচের গুঁড়া পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা দরে। যা খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা দরে। আর ভেজাল মরিচের গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা দরে। দামে কম হওয়ায় ক্রেতারা দেদারসে এসব ভেজাল মসলা গুঁড়া কিনছেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে এসব ভেজাল মসলা কিনে গ্রাম-গঞ্জের দোকানে খুচরা বিক্রি করেন।
ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক সাদ্দাম হোসেন খান বলেন, রাসায়নিক জীবাণু থেকে মানবদেহে ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ কমপক্ষে ৫০ ধরনের মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে। মানবদেহে সাইপারমেথরিনের সহনীয় মাত্রা ০.০১ পিপিএম হলেও বাজারে বিক্রি হওয়া মসলায় পাওয়া গেছে গড়ে ০.৭৩ পিপিএম। এ ছাড়া ডায়াজিননের সহনীয় মাত্রা ০.০১ পিপিএম হলেও বাজারজাত করা বিভিন্ন মসলায় এর পরিমাণ পাওয়া গেছে ০.১৯ পিপিএম। প্রতিনিয়ত ভোক্তার শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে হলুদ মরিচ ও মসলায় মেশানো এসব রাসায়নিক। মরিচে মেশানো হচ্ছে আলফাটক্সিন নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এই মিশ্রণও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার ভোলার এডিসি জানান, ঘটনা শুনে খবর নিয়েছি। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করব।