যশোরের চৌগাছায় আমন ধান কাটা শুরু হলেও বিঘাপ্রতি তাদের পাঁচ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। উঠছে না উৎপাদন খরচ। ফলে বর্গাচাষিদের মাথায় হাত। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে যখন নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস, ঠিক তখনই আগাম ধান কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর কথা। কিন্তু হাসির পরিবর্তে তাদের মুখ এখন ম্লান। ধান ঘরে তুললেও দাম কম পাওয়ায় খুশি হতে পারছেন না চাষিরা।
গত মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠে মাঠে আগাম ধান কাটা শুরু হয়েছে। কেউ ধান কাটছেন, কেউ ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউবা জমিতে কিংবা বাড়ির উঠোনে ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
এ উপজেলায় আমন ধান কাটা শুরু হলেও পুরোদমে শুরু হতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তখন শুরু হবে ধান কাটার মহোৎসব। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে সোনালী স্বপ্ন ঘরে তোলার কাজ। ধানের দাম ভালো না থাকায় চাষিদের মন বেজার। অপরদিকে মজুরি বেশি ও শ্রমিক সঙ্কট থাকায় ধান ঘরে তুলতে অনেকে পড়েছেন বেকায়দায়। এদিকে বাজার ঘুরে জানা গেছে, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ফয়সাল হোসেন জানান, চলতি আমন মৌসুমে চৌগাছা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান ব্রি-৫১, বি-৪৯, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭, রডমিনিকেট, বিনা-১৭, স্বর্না ও প্রতীক জাতের ধানের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন।

উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের কৃষক নুরুনব্বী বলেন, ‘সার-কিটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় আর্থিক সঙ্কটের মধ্যেও ধান চাষ করেছি। গত বছর এক বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করতে দুই-তিন হাজার টাকা খরচ হতো। এবার প্রায় দুইগুণ বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে, তবুও শ্রমিক সঙ্কট। অন্যদিকে ধানের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বিপাকের মধ্যে পড়েছি। কার্তিকেই ধান কাটা শুরু হলেও খুশি হতে পারছি না।’
খড়িঞ্চা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমির ধান কাটা, মাড়াই শেষ করেছি। আগাম ধান ঘরে উঠাতে পেরেছি। এবার ধার দেনা করে আমন ধানের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু এখন দেনা শোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এক বিঘা আমন ধানে জমি লিজ, বীজতলা তৈরি, জমি তৈরি, রোপন, সার, ওষুধ, নিড়ানী, সেচ, কাটা, মাড়াই ও বহনবাবদ খরচ হয় প্রায় ২৪ হাজার টাকা। এক বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে গড়ে ১৫-১৬ মন। বর্তমান বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকায়। নিজের হাড়ভাঙা পরিশ্রম বাদ দিলেও প্রতি বিঘায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধান আবাদে যে খরচ হয়েছে তাতে কমপক্ষে ১৫শ’ টাকা মন দরে ধান বিক্রি করতে না পারলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ধানের আশানুরূপ ফলনও হয়েছে। এ বছরে আবহাওয়া ভালো, তাই ধানের ফলনও ভালো। উপজেলা কৃষি অধিদফতরের পক্ষ থেকে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে শ্রমিক সঙ্কট অনেকটাই কমে আসবে।