নতুন বাংলাদেশ নিয়ে প্রত্যাশা জানিয়েছেন রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, নিপীড়িত অভ্যুত্থানকারী বিজ্ঞজনেরা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘কী চাই নতুন বাংলাদেশে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে লেখক ও গবেষক সলিমুল্লাহ খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, গুম হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, লেখক ও গবেষক ড. মোবাশ্বর হাসান, অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে দুজন শহীদের অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, আমরা সমতাভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। ১৯৭১ সালেও যে ৩টি উদ্দেশ্য সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তার মধ্যে ছিল সাম্য, ন্যায় ও মর্যদাভিত্তিক রাষ্ট্র। কিন্তু ১৯৭২ সালে যে সংবিধান রচনা করা হলো সেখানে এই বিষয়গুলো অনুপস্থিত ছিল। আপনারা জানেন এই যে ফ্যাসিবাদী সিস্টেম গড়ে উঠেছে তা ২০০৭ বা ২০০৮ সালের পর থেকে গড়ে ওঠা। তবে এর গোড়া পত্তন হয়েছিল সেই ১৯৭২ সালেই। তারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে বেঈমানি করেছে। এটি নিয়ে আমি একটি বই সম্পাদনা করেছি, যার নাম হচ্ছে বেহাত বিপ্লব ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার জন্য তরুণ সমাজকে তিনি আহমদ ছফার বই পড়ার পরামর্শ দেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি শহীদ ফাউন্ডেশন’ করা হয়েছে। যারা আহত হয়েছেন তাদের জন্য আমার একটি ওয়েবসাইট করেছি। ওয়েবসাইটে কিন্তু আমরা পুরো লিখে দিয়েছি কারা কারা কোথায় কোথায় কিভাবে আহত হয়েছেন। পুরো লিস্ট আছে। যারা আহত হয়েছে তাদের লিস্ট আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডাবল কাউন্টিং হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে ঢাকা মেডিক্যালে একজন যে নামে লিপিবদ্ধ হয়েছেন গ্রামেও সেই নামে লিপিবদ্ধ হয়েছেন। যেসব শহীদের নাম এসেছে তাদেরকে আমরা নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করেছি। ফলে একটু দেরি হয়ে গেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই যেটা আসলে গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে অনেকেই অনেক ত্যাগ, অনেক সংগ্রাম করেও অর্জন করতে পারিনি। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে আমরা মনে করব আমরা সত্যিই স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, স্বচ্ছতা থাকবে। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে মেধার বিকাশ ঘটবে, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কোনো একটি রাজনৈতিক দল করতে হবে না।
বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতার রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছে উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিবাদী পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র কাঠামোকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে আমরা তাদেরকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ফিরবে কি ফিরবে না সেই সময় এখনো আসে নাই। আওয়ামী লীগের বিচার না করা পর্যন্ত যারা এই আলোচনাটি করছে তারা মূলত কখনোই এই ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাইয়ের আন্দোলনকে প্রকৃতপক্ষে হৃদয়ে ধারণ করেনি।