সাতক্ষীরা তালা উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিসের উচ্চমান সহকারী মিলন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে জমি নিয়ে নিরীহ মানুষকে মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে তালার ধানদিয়া ইউনিয়নের প্রভাষ চক্রবর্তী ও তার তিন ভাইয়ের মোট ৩.৭৬ একর জমি ছিল। এর মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ প্রভাষ চক্রবর্তীর ভাগের ৯৪ শতক জমি ১৯৬৯ সালের ১১ অক্টোবর ৬২৯২ নং কবলা দলিল মূলে ক্রয় করেন মোস্তাফিজুর রহমান, গোবিন্দ বিশ্বাস, বিজয় বিশ্বাস গংরা। প্রভাষের অন্য তিন ভাইয়ের কাছ থেকেও বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে পুরো সম্পত্তি ক্রয় করেন মোস্তাফিজুর রহমান গংরা, যা খুলনা সাব-জজ আদালতের দেওয়ানী ৭৫৯/৬৭ মোকদ্দমার মূলে ডিক্রিপ্রদত্ত।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিকরা দীর্ঘদিন জমির খাজনা পরিশোধসহ ভোগ-দখল করে আসছেন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল প্রভাষ চক্রবর্তীর ছেলে মিলন চক্রবর্তী স্বার্থান্বেষীদের ইন্ধনে তালা সহকারী কমিশনারের অফিসে ২৯ জনকে বাদি করে একটি অভিযোগ দেন। যে সম্পত্তি তার বাবা প্রভাষ চক্রবর্তী ও তার ভাইয়েরা ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে বিক্রিয় করেছেন, তার প্রমাণাদিও ইতোমধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসারের কাছে জমা হয়েছে। তার পরও মিলন হয়রানির উদ্দেশ্যে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। জনশ্রুতি আছে যে, এ উচ্চমান সহকারী সেবা প্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলে উৎকোচ নিয়ে কর্মকর্তাদের সাথে ভাগবাঁটোয়ারায় বসেন।
সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অফিসের উচ্চমান সহকারী মিলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ভুয়া কাগজপত্র করে অনেকের জমি দখলে নেয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। মামলাবাজ হিসেবে পরিচিতি মিলন প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হলেও নায়েবের মাধ্যমে কৌশলে বিবাদির কাগজপত্র নিয়ে ভুয়া কাগজ করার পাঁয়তারা করছেন। আর অভিযোগ নিষ্পত্তির নামে এসিল্যান্ডকে ম্যানেজ করে ঘন ঘন তারিখ পরিবর্তন করে সময়ক্ষেপণ করছেন। তাকে ইন্ধন যোগাচ্ছেন ধানদিয়া গ্রামের পার্থ চক্রবর্তী, নাড়– ঠাকুরসহ কতিপয় আওয়ামী সুবিধাভোগী।
সম্প্রতি মামলার বাদি মিলনের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি এ প্রতিবেদকের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
মামলার বিবাদিদের একজন মুখলেসুর রহমান (মুকুল) জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা দেখিয়ে মিলন আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে পালালেও দৌরাত্ম্য কমেনি মিলনের।
সম্প্রতি তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বকুল মিয়ার কাছ থেকে নামজারিতে নাম সংশোধনের নামে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করেন তিনি। এর আগে মিলনের দুর্নীতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও আওয়ামী ছত্রচ্ছায়ায় পার পেয়ে যান তিনি।
হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, আমার আদালতে মামলা-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কিছু জানতে চাইবেন না, এটা সাংবাদিকের কাজ না।





