আরাকান আর্মি ও আল ইয়াকিনের মধ্যে প্রচন্ড গোলাগুলি হয়েছে। উখিয়ার পাশের উপজেলা নাইক্ষংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে সীমান্ত পোস্ট দখলে নিতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের দু’সশস্ত্র বিদ্রোহীর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে।

বুধবার ভোর রাত ও বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

তুমব্রু গ্রাম ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার উত্তর পাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকার ৩৪ থেকে ৩৫ পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় বুধবার রাত ১২টার দিকে প্রথম ঘটনা ঘটে। যা ‍মিয়ানমারের সামান্য ভেতরে। এ সময় অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। একই সীমান্ত পিলার এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টানা অর্ধশত রাউন্ড গোলাগুলির তীব্র শব্দে তুমব্রু গ্রাম ও তুমব্রু বাজার এলাকা কেঁপে উঠে।

একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি আরকানের স্বশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও আল ইয়াকিনের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে বলে তারা শুনেছেন।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ শফিক আহমদ বলেন, ‘গত রাত ও সকালে এ গোলাগুলি ছিল এ বছরের সবচেয়ে দীর্ঘ গোলাগুলির ঘটনা। এর আগে বিগত কয়েক মাস এ সীমান্ত শান্ত ছিল। মাঝে মধ্যে কয়েকটি গুলির আওয়াজ শুনা গেলেও হঠাৎ করে গত রাত ও সকালে এ গোলাগুলির শব্দ তাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে। তার মতে, সীমান্তে নতুন কিছু হচ্ছে।’

তুমব্রু এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বাজার ব্যবসায়ী নুরুল আবছার বলেন, ‘গভীর রাতে এমন গোলাগুলির আওয়াজে তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

অপর গ্রামবাসী মোহাম্মদ ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘তাদের সীমান্ত এলাকার মিয়ানমার অংশে আরকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর থেকে এবারই প্রথম প্রচন্ড গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে। তার ধারণা, মিয়ানমারের জান্তা সরকার-সমর্থিত একটি বিদ্রোহী গ্রুপ আরাকান আর্মির দখলে থাকা ক্যাম্পগুলো দখলে নিতে এ হামলা চালানো হচ্ছে। তার জবাবে দখলদার আরাকান আর্মি পাল্টা জবাব দিয়ে গোলাগুলির ঘটনা হচ্ছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।’

তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সরোয়ারও একই বক্তব্য দেন।

এদিকে সীমান্তে পূর্বাংশে সীমান্তের ৫১ থেকে ৫২ পিলারের বিপরীতে সশস্ত্র বিদ্রোহী আরাকান আর্মির একটি পোস্ট ধ্বংস ও তাদের টহলকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। ৪৪ থেকে ৫০ নম্বর পিলার এলাকায় বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়ে বিজিবি-১১ জোয়ানরা ১১ দিন পর আবারো টহলে দেখা গেছে বলে জানান সীমান্তের বাসিন্দা ছৈয়দ আহমদ ও গুরা মিয়া।

এ বিষয়ে বিজিবি-৩৪ অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেলআব্দুল্লাহ আল মাশরুকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমার অংশে গোলাগুলি বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটলেও এপারের সীমান্তরক্ষীদের কিছু করার নেই। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে টহল চলমান রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।