কক্সবাজারের টেকনাফে এক দিনের ব্যবধানে দু’ সিএনজির চালকসহ আরো নয়জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর আগে সোমবার টেকনাফ বন বিভাগের পাহাড়ে কাজ করার সময় ১৮ জন শ্রমিককে অপহরণ করা হয়। এ নিয়ে দু’দিনে মোট অপহৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭-এ। পুলিশ, র‌্যাব ও বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ (এপিবিএন) যৌথ অভিযান চালালেও এখনো কেউ উদ্ধার হয়নি।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে দু’টি অটোরিকশা থামিয়ে চালকসহ আটজনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামলাপুর সিএনজি অটোরিকশার লাইনম্যান মো: আবদুর রহিম।

মো: আবদুর রহিম বলেন, ‘সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে হোয়াইক্যং থেকে আসা শামলাপুরগামী দু’টি সিএনজি অটোরিকশা হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে পৌঁছালে ঢালা থেকে ডাকাতদলের সদস্যরা দু’টি সিএনজির চালকসহ আনুমানিক আটজনকে অপহরণ করেছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে অপহৃতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।’

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার শাহা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং- শামলাপুর সড়কে দু’টি সিএনজি অটোরিকশা থেকে চালকসহ যাত্রী অপহরণের ঘটনা শুনে অভিযান চালানো হচ্ছে। কত জন অপহরণ হলেন সেটার সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। সিএনজি দু’টি উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে, সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নেরবড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার নাজিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জসিম উদ্দিনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে দক্ষিণ বড় ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাস্তার মাথা নিজ মুদির দোকান থেকে জসিমকে অপহরণ করে পাহাড়ের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপহরণের পর এখনো সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

জসিমকে উদ্ধারেও পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার শাহা।

সোমবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া পাহাড়ে বনবিভাগের জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে গিয়ে বনকর্মীসহ ১৭ জন অপহরণের কথা প্রচার হলেও তার সংখ্যা ১৮ জন বলে মঙ্গলবার সকালে জানিয়েছেন বনবিভাগের টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ।

তিনি জানান, বনবিভাগের কাজ করতে গিয়ে এদের অপহরণ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব ও বনবিভাগে কর্মীসহ স্থানীয় জনগণ পাহাড়ে অভিযান চালাচ্ছেন। কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ফোন দিচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

অপহৃত বনকর্মী সাইফুল ইসলামের বাবা জুহুর আলম বলেন, ‘তার ছেলে মুঠোফোন থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। আমার ছেলের বাবদ এক লাখ টাকাসহ ১৮ জনের জন্য ১৮ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি করা টাকা আমার কাছে নেই বললেই তারা ছেলেকে মারধর ও নির্যাতন করে ছেলের মাকে ফোন দিচ্ছে। র‌্যাব, পুলিশ নিয়ে ঝামেলা করলে ছেলের লাশ পাঠানো হবে বলে তারা ফোনে হুমকি দেয়।’

অপহৃত আনসার উল্লাহ ও আয়াত উল্লাহর মা খতিজা বেগম বলেন, ‘দু’ ছেলেকে অপহরণের পর এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করেছিল সন্ত্রাসীরা। দাবি করা টাকা না পেলে দু’ ছেলের লাশ নিতে প্রস্তুত থাকার জন্য হুমকি দিচ্ছে।’

হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘পাহাড়ে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এরপর মুক্তিপণ আদায় করে ধরে নিয়ে যাওয়া লোকজনকে ছেড়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের দাবি করা টাকা না পেলে অপহৃতদের নির্যাতন করা হয়। এলাকার লোকজন অপহরণ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘অপহৃতদের উদ্ধারে স্থানীয়দের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।’

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’