বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে লন্ডন, ম্যানচেস্টার, দুবাই, ব্যাংককসহ বিশ্বের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব রুটে এখন যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। তবে দক্ষভাবে যাদের দিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার কথা; সেই পাইলটবহর প্রতিনিয়ত কমছে। উপরন্তু নানা কারণ দেখিয়ে কোনো কোনো পাইলটের অন্য এয়ারলাইন্সে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে আরো চারজন অভিজ্ঞ পাইলট বিদায় নিয়েছেন। তারা সবাই বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআরের পাইলট ছিলেন। অবসরে যাওয়া এ চারজন হচ্ছেন হাসান ইমাম, ইসহাক, অরবিন্দ এবং জাকির। এর আগে বিমান থেকে বিদেশী সাতজনসহ মোট ৯ জন পাইলট স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে যান। তাদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশী পাইলট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিমানের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। পদত্যাগ করেই তারা দেশের শীর্ষ বেসরকারী বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। তারা হচ্ছেন ক্যাপ্টেন তাহমিদ এবং মারুফ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বলাকা ভবন সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বেতন-ভাতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা বিদেশী সাত পাইলট চুক্তি বাতিল করে চলে গেছেন। যদিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা (মুখপাত্র) বোসরা ইসলাম এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, বিদেশী পাইলটদের সাথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কতৃর্পক্ষের যে চুক্তি ছিল; সেটি শেষ হওয়ায় তারা চলে গেছেন। ওই সময় বিমানের বহরে পাইলটের সঙ্কট রয়েছে বলে তিনি নয়া দিগন্তকে জানিয়েছিলেন।
গতকাল বিমানের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, আগের রুটগুলোর সাথে নতুন করে কানাডার টরেন্টো, ইতালির রোম এবং এশিয়ার দেশ জাপানে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রীও হচ্ছে অনেক। আসা-যাওয়া সবসময় ফুল থাকছে। কিন্তু বিমান থেকে বেশ কয়েকজন দক্ষ পাইলট চলে গেছেন। যারা চলে যাচ্ছেন সেই জায়গায় দক্ষ পাইলট কিন্তু আসছে না। কী কারণে আসছে না তা আমরা বলতে পারছি না। এ বিষয়ে বিমান ম্যানেজমেন্টকে আরো বেশি জোর দেয়া উচিত। এখন বিশ্বের সব রুট সচল রাখতে কতৃর্পক্ষ পাইলটদের দিয়ে কোনো কোনো রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করাচ্ছেন। এতে বাড়তি চাপ পড়ছে বলে পাইলটদের সাথে কথা বলে জেনেছেন। তাদের জানামতে, কয়েকদিনের ব্যবধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে পৃথকভাবে মোট ১৩ জন পাইলট চলে গেছেন। এর মধ্যে অবশ্য ৪ জন পাইলট গত সপ্তাহে অবসরজনিত কারণে চলে গেছেন বলে বলাকা ভবন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গতকাল সন্ধ্যার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো: সাফিকুর রহমানের সাথে পাইলট সঙ্কট নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন রিসিভ করেননি।
পরে জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম নয়া দিগন্তকে চারজন পাইলট চলে যাওয়ার বিষয়ে শুধু বলেন, আমি যতটুকু জানি এটি একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস। একজন পাইলট ৫৯ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে পারেন। এরপর তিনি নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যান। পরবতীর্তে যদি প্রয়োজন থাকে তাহলে তাদের সাথে নতুন করে বিমানের চুক্তি হয়। বিমানের বহরে পাইলট সঙ্কট রয়েছে কি না এবং নতুন পাইলট নিয়োগ দেয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে বোসরা ইসলাম বলেন, আমি যতটুকু জানি ইতিমধ্যে ৪৮ জন ক্যাডেট পাইলট বিমানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
গত রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, এ মুহূর্তে তাদের বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর পাইলটের সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। বিমানের ২২-২৩টি রুটে চলাচলের জন্য বর্তমানে দুই শতাধিক পাইলট রয়েছে। কিন্তু দরকার কমপক্ষে তিন শ’ জন। এখন যে ৪০-৫০ জন ক্যাডেট পাইলট রিক্রুট করা হয়েছে তাদের ট্রেনড আপ হতেই আরো এক বছর সময় লাগবে।