গাজীপুরের সাফারি পার্কের দেয়াল টপকে পালিয়ে যাওয়া নীলগাই পাঁচ দিনেও উদ্ধার হয়নি। নীলগাইটি পার্কে ফিরিয়ে আনতে অভিযানসহ নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরসহ পাশর্^বর্তী তিনটি জেলার বাসিন্দাদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্ক গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক রফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, পুরুষ নীলগাইটি গত ১৬ জানুয়ারি সাফারি পার্কের ভাঙা দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নীলগাইটিকে পার্কে ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে নীলগাইটি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, ময়মনসিংহের ভালুকার সিডস্টোর, বাটাজোর ও টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় বিচরণ করছে। স্থানীয়দের সতর্ক ও নীলগাইয়ের যাতে কেউ ক্ষতি না করে তার জন্য ওই সব এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নীলগাইটি ১৮ জানুয়ারি শনিবার সকালে ময়মনসিংহের বাটাজোর বাজার এলাকায়, বিকেল পাঁচটার দিকে টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার কালমেঘা এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তবে রাতে খোঁজ করে নীলগাইটির সন্ধান মেলেনি। ১৯ জানুয়ারি রোববার শ্রীপুর উপজেলার জয়নাতলী এলাকায় খোঁজ পাওয়া যায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পৌঁছে ধরার জন্য বেড় তৈরি করার সময় কুকুর ধাওয়া দিলে নীলগাইটি পালিয়ে যায়। আমরা এখনো নীলগাইয়ের আর কোনো খোঁজ পাইনি।
পার্ক কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য মতে, সাফারি পার্কে সর্বশেষ ১১টি নীলগাই ছিল। নীলগাইটি পালিয়ে যাওয়ার পর এখন সেখানে রয়েছে ১০টি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই পার্ক থেকেই আরেকটি নীলগাই পালিয়ে যায়। দুই মাস পর টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে লোকালয়ে যাওয়া নীলগাইটিকে উদ্ধার করে পার্কে আনা হয়েছিল। ২০১৯ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ হওয়া চারটি নীলগাইকে সাফারি পার্কে আনা হয়। সেখানেই তারা নতুন বাচ্চার জন্ম দিয়ে দলের সংখ্যা বাড়িয়েছে।