যশোরের চৌগাছায় আইসক্রিমের কাঠি তৈরি করে বিপুল হোসেন স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এলাকার দুই শতাধিক বেকার নারী ও পুরুষের।
১৩ বছর আগে বিপুল হোসেন উপজেলার তার্নিবাস গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন আইসক্রিমের কাঠি তৈরির কারখানা। বর্তমানে কারখানাটি স্থানান্তর করেছেন মাসিলা গ্রামে। কারখানাকে কেন্দ্র করে কাঠ ব্যবসায়ী, স-মিল শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক ও কারখানা শ্রমিক সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৬০ জন বেকারের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে আরো দুই শতাধিক নারী পুরুষের।
বিপুল হোসেন বলেন, তিনি প্রথমে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সেই সুযোগে পরিচয় হয় আইসক্রিমের কাঠি তৈরি কারখানা মালিকদের সাথে। তার পরামর্শে তিনি কাঠের কাঠি তৈরির পরিকল্প ও কাজ শুরু করেন। বিপুল হোসেন চৌগাছা পৌরসভার মৃধাপাড়ার মৃত শমসের বিশ্বাসের ছেলে।
কাঠ থেকে কাঠি তৈরির কাজটি বেশ ভালো লাগে তার। কারখানার মালিকের সাথে আলাপ করে জানতে পারেন ব্যবসাটি যথেষ্ট লাভজনক। ২০১১ সালে প্রথম তার নিজ এলাকায় তার্নিবাস গ্রামে গড়ে তোলেন বিপুল ট্রেডিং নামে একটি কাঠি তৈরি কারখানা। সে সময় একটি কাটিং ও একটি ফিলিং মেশিন নিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে কয়েকটি কাটিং ফিলিং মেশিন রয়েছে তার কারখানায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা যায়, নির্দিষ্ট মাপের কাঠের খণ্ড প্রথমে ফিলিং মেশিনে দিয়ে পাতলা কাঠের পাতে পরিণত করা হয়। পরে এই পাত, কাটিং মেশিনে দিয়ে ছোট ছোট কাঠিতে পরিণত করা হয়। এরপর একটি ড্রামে ঢুকিয়ে কাঠিগুলোকে পালিশ করে রোদে শুকানো হয়। এ কারখানাতে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ কাঠি তৈরি করা হয়।
বিপুল হোসেন বলেন, আইসক্রিমের কাঠি তৈরি করতে কাঁচামাল হিসেবে কদম, আমড়া, ছাতিম, ভাটাম ও পিটেলি জাতীয় নরম কাঠ ব্যবহার করা হয়। তিনি কাঠি তৈরিতে ভাটাম (স্থানীয় নাম পেটুল) গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। কাঠি তৈরির কারখানাটি মেশিন নির্ভর হলেও কাটিং, গ্রেডিং, বান্ডিল ও প্যাকেটজাত করতে বেশ লোকের প্রয়োজন হয়। শ্রমিকদের পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দেন তিনি। নারীরা বাড়িতে বসে কাঠি গ্রেডিং, বান্ডিল বাঁধা ও পাকেটজাতকরণের কাজ করেন। প্রতি বান্ডিলে এক হাজার কাঠি থাকে। এক বান্ডিল কাঠি তৈরিতে ৩২/৩৩ টাকা খরচ হয় এবং তা বিক্রি করা হয় ৩৪/৩৫ টাকায়। কারখানায় উৎপাদিত কাঠি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
কারখানায় কর্মরত আশাদুল ইসলাম, সামাউল হোসেন ও সাজেদা বেগমসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই কারখানায় তারা সানন্দে কাজ করছেন। মালিক বিপুল হোসেন তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দেন। প্যাকেটজাতকরণ কাজে নিয়জিত নারীশ্রমিক মমতাজ বেগম, মনোয়ারা বেগম, শ্যমালী খাতুন বলেন, সংসারের কাজের ফাঁকে বাড়িতে বসেই বাড়তি আয় করতে পেরে তিনি খুশি।
সফল উদ্যোক্তা বিপুল হোসেন বলেন, কারখানার মেশিন ও অন্যান্য উপকরণের মূল্য খুব বেশি নয়। তাই মেধা ও শ্রম দিতে পারলে অল্প পুঁজিতে এ শিল্পে যথেষ্ট লাভ পাওয়া সম্ভব।