কৃষকদের মেরুদণ্ডের ওপর ভর করেই বয়ে চলে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অথচ সেই কৃষকদেরই নেই কোনো সম্মান ও সুযোগ সুবিধা। তবে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক) ও বাকৃবি প্রশাসন সম্প্রতি কৃষকদের প্রকৃত সম্মান জানাতে এক ভিন্নধর্মী আয়োজন করেছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘কৃষক দিবস-২০২৫’। এই কৃষক দিবসে প্রতিযোগিতামূলক সবজি বাগান চাষে সেরা ছয় কৃষক-কৃষাণীকে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।
সম্মাননা পাওয়া কৃষকরা হলেন, দুই বিঘা জমিতে ব্রোকলি চাষ করা ময়মনসিংহ সদরের সুহিলার ইউনিয়নের আব্দুল খালেক, পৌনে দুই একর জমিতে কলা চাষ করা বয়ড়ার আবদুর রাজ্জাক, শৈলমারীর আদর্শ সবজিচাষি আব্দুল করিম, সমন্বিত পোলট্র্রি খামারি মুক্তিযোদ্ধা বাজারের মোছা: নুরুন্নাহার, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজিচাষি ভাবখালীর হাসনা খানম এবং আদর্শ পোলট্রি খামারি মির্জাপুরের আব্দুল হক।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক) এবং বাকৃবি প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার দিবসটি পালন করা হয়। এদিন অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল কৃষকদের কাছে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ, কৃষকদের জন্য বাকৃবির খামার পরিদর্শন এবং বীজ বিতরণ কর্মসূচি। ‘কৃষকবান্ধব প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হউক আমাদের অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বাকৃবি ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি কৃষক র্যালির বের করা হয়। ৩০০ জন কৃষাণ-কৃষাণীর অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণের পর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে কৃষকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাকৃবি সম্প্রসারণ কেন্দ্রের (বাউএক) পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভিসি অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক বাহানুর রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাউরেসের পরিচালক ড. হাম্মাদুর রহমান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।