কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার বেথইর মৌজায় শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমি রয়েছে। এসব জমিতে প্রতি মৌসুমে কয়েক হাজার মণ বোরো ধান হয়। কিন্তু এবার কৃষিকাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপটি (সেচযন্ত্র) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে জমিতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। যারা ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ করেছেন, পানির অভাবে তারাও পড়েছেন বিপাকে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেথইর মৌজায় শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমি রয়েছে। এসব জমিতে প্রতি মৌসুমে কয়েক হাজার মণ ধান হয়। ওই এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিএডিসি একটি গভীর সেচযন্ত্র স্থাপন করেছিল। যার মাধ্যমে এখানকার কৃষকেরা ধান আবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু গত এক মাস আগে সেচযন্ত্রের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় পানি তোলা বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় নতুন করে তিনটি ট্রান্সমিটার ক্রয় করার ক্ষমতা তাদের নেই। তাই এবার ধান আবাদ করতে না পারলে জমির লগ্নি ও ধান লাগানো বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ লোকসান গুনতে হবে তাদের।
সেচপাম্প পরিচালনাকারী নুরুল ইসলাম সংগ্রাম এবং আব্দুল মালেক জানান, এক মাস আগে এক রাতেই তাদের সেচপাম্পের তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেছেন। বিদ্যুৎ অফিস তাদের নিজ খরচে ট্রান্সফরমার কিনে পুনঃস্থাপনের পরামর্শ দিলেও দুই লাখ টাকা খরচ বহনের সক্ষমতা তাদের নেই। ফলশ্রুতিতে একরের পর একর জমি অনাবাদি থেকে শুকিয়ে আছে। জমির বোরো ধানের চারা লালচে হয়ে মরতে শুরু করছে।
কৃষক মতিউর রহমান (৭০) জানান, এ মৌজায় ১৫০ শতাংশ জমি রয়েছে তার। তা থেকে বোরো মৌসুমে যে ধান হয়, তা দিয়ে তাদের সারা বছর সংসার চলে। পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে ধানের চারা উৎপাদন এবং ১০ হাজার টাকা খরচ করে গত ১৫ দিন আগে জমি পরিষ্কার, সার ও চাষ দিয়ে প্রস্তুত করেছিলেন। তবে সেচের পানির ব্যবস্থা না থাকায় ধান লাগাতে পারছেন না তিনি। কৃষক সেলিম মিয়া জানান, জমি ইজারা নিয়ে ধান চাষ করেন। হঠাৎ সেচ মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে জানা থাকলে বিকল্প ফসল চাষ করতেন তিনি।
সেচের বিষয়টি বিএডিসির (ক্ষুদ্র সেচ) আওতাভুক্ত হলেও ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপের আশ্বাস দেন কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এবার কটিয়াদীতে ১২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখনো আবাদ শেষ হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে গভীর নলকূপের সমস্যার সমাধান করা গেলে আবার আবাদ করা সম্ভব হবে।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কটিয়াদী জোনের এজিএম শাহরিয়ার হোসেন তন্ময় জানান, বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনা জেনেছেন, থানায় অভিযোগও দেয়া হয়েছে।
বেথইর মৌজার বিএডিসির (ক্ষুদ্র সেচ) কুলিয়ারচর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শাওন মালাকার বলেন, বিএডিসির নীতিমালা অনুযায়ী ট্রান্সমিটার চুরি হয়ে গেলে গ্রাহকের নতুন করে আরেকটি কিনে নিতে হবে। ট্রান্সমিটার ক্রয়ে গ্রাহককে ভর্তুকি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, নতুন ট্রান্সমিটার সংযোগের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।





