ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের মহনা গ্রামে পারাপারের জন্য নিজেদের উদ্যোগে গাছ ও কাঠ দিয়ে স্থানীয় চুল্লার খালের ওপর পুল তৈরি করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বহু জনপ্রতিনিধি অনেকবার আশ্বাস দিলেও গত ৫৪ বছরে সেতুটি নির্মাণ হয়নি। সারা বছর চরম দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মাণ করা হচ্ছে এই পুলটি। কথাগুলো বললেন, ওই গ্রামের ছাইদুল ইসলাম পাঠান ও মাওলানা জামাল উদ্দিনসহ পাশের আশকা, কুল্লাব, চান্দাব ও রাজৈ গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা।
এলাকাবাসী জানান, দুর্ভোগ থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে পারাপারে বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে তারা স্থানীয় কয়েকজন যুবক এলাকায় একাধিকবার বৈঠক করে স্থানীয় অর্থায়নে উপজেলা আশকা-মহনা সড়কের চুল্লার খালে হারেছ মাস্টারের ঘাটে একটি কাঠের পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তারা ওই স্থানে ১৮৫ ফুট দৈর্ঘ, ৮ ফুট প্রস্থ ও খালের মাঝখান থেকে ২৫ ফুট উচ্চতার একটি কাঠের পুল তৈরির জন্যে এলাকা থেকে গাছের খুঁটি, কাঠের জন্যে গাছ ও অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সময়ে শুরু করেন কাক্সিক্ষত কাঠের পুল তৈরির কাজ এবং কাজটি প্রায় পারাপারের উপযোগী করা হয়েছে। কাঠের পুল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ১০ জন নির্মাণ শ্রমিক ও স্থানীয় যুবকরা।

নির্মাণ শ্রমিকদের প্রধান মুরাদ মিয়া জানান, গত ১৫ বছরে তিনি কমপক্ষে ৩০-৩৫ কাঠের পুল তৈরি করেছেন। তার করা কাজের মধ্যে এই পুলটি সবচেয়ে দীর্ঘ এবং মজবুত। পুলের খুঁটি এবং পাটাতনে মোটা ও টেকসই কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।
উদ্যোক্তা ফেরদৌস ঢালী জানান, পুলটি তৈরিতে মিস্ত্রীদের মজুরিসহ অন্যান্য খরচ বাবদ তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হবে। চলতি মাসেই পুলের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হলে রিকশা, অটো, সিএনজি চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হবে।
ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, উপজেলার মহনা ও আশকা গ্রামের সিমান্তবর্তী চুল্লার খালের ওই অংশে এরইমধ্যে একটি পুলের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আশা রাখছি, অতি সম্প্রতি এলাকাবাসীর জন্য সুসংবাদ পাওয়া যেতে পারে।