দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনের স্থানে পরিষদের নামে রেজিস্ট্রিকৃত ৩২ শতাংশ জমিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া জবর দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে লর্ডহার্ডিঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করে তার ছোট ছেলে মো: আবুল হাসনাত তানজিলের মাধ্যমে পরিচালনা করাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নামে লর্ডহার্ডিঞ্জ মৌজায় ১৯৮৫ সালের ৯ জুন জবেদ আলী ও আবদুল আজিজ নামের দুই ব্যক্তি ১৬ শতাংশ করে ৩২ শতাংশ জমি ৯ নম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউপি পরিষদের পক্ষে চেয়ারম্যান প্রিয় লালমোহন উপজেলাকে কবলা দলিল বা রেজিস্ট্রারি করে দেন। দাতাদের দেয়া ওই ৩২ শতাংশ জমিতে ওই বছর থেকেই ইউপি পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়।
ওই জমিতে তৎকালীন সরকার একটি একতলাবিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মাণ করে পরিষদের কার্যক্রম বেগবান করেন। পরিষদের নামে ওই জমি হাল রেকর্ড করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি একতলা ভবনটি জরাজীর্ণ না হলেও উপজেলা লীগের সহসভাপতি ও লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া টেন্ডারের মাধ্যমে ভেঙে নিয়ে যায় এবং জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন এবং ওই ভবনে রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো: সরোয়ার, হারুন মাতাব্বর, আবদুর রসিদ, আলী হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব জায়গা চেয়ারম্যান দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। আমরা চাই পরিষদের নিজস্ব জায়গায় পরিষদের কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা হোক। স্থানীয় বাসিন্দারা আরো অভিযোগ করেন চেয়ারম্যানের ছেলে যুবলীগের সহসভাপতি ইকবাল হোসেন সৈয়দাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির চাকরি নিয়ে নিজে ডিউটি না করে বেতনভাতা ভোগ করছেন এবং চরফ্যাসন উপজেলার ফাতেমা মতিন কলেজেও চাকরি করেছেন।
এ ব্যাপারে লর্ড হার্ডিঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক আবুল হাসনাত তানজিল বলেন, ওই ভবনটি চেয়ারম্যানের ছেলে আমার বড় ভাই যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন জুলহাস ও (আমার বাবা) চেয়ারম্যান থেকে ভাড়া নিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে ইকবাল হোসেন জুলহাস বলেন, আমি কমিউনিটি ক্লিনিকে সময় দিতে পারিনা তাই চাকরি ছেড়ে দেবো। জায়গা দখলের ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও লীগের সহসভাপতি মো: আবুল কাশেম মিয়া বলেন, ওই জমির কাগজপত্র আমার কাছে আছে।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শাহ আজিজ বলেন, তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।