পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ সমরাস্ত্রের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চায়। বাংলাদেশের সামরিক খাতে আধুনিকায়নে অবদান রাখার ইতালির আগ্রহকে আমরা স্বাগত জানাই। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতালির পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মারিয়া ত্রিপোদির সাথে বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ সব কথা জানান। মারিয়া ত্রিপোদি দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা এসে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) আব্দুল হাসান মৃধা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে থেকে এটাই মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম সফর।
বৈঠকে অভিবাসন ইস্যুতে বলা হয়, ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীরা দুই দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে, যা প্রশংসাযোগ্য। তারা বৈধ অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের শোষণ করার অপচেষ্টা মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইতালি যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়টি উত্থাপন করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইতালির উপমন্ত্রী এ ব্যাপারে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়ার নিশ্চয়তা দেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের বিস্তৃত অঞ্চল রাষ্ট্রবহির্ভূত শক্তির হাতে চলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এ কারণে বাংলাদেশ জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন সমস্যার একমাত্র সমাধান।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন মারিয়া ত্রিপোদি। তিনি এ ব্যাপারে ইতালির মানবিক ও রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলাদেশের সাথে ইতালির চমৎকার অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে ব্যবসার আরো ভালো পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশে বিশেষ করে গ্রিনফিল্ডে বিনিয়োগের জন্য ইতালির প্রতি আহ্বান জানান। ইতালির মন্ত্রী বাংলাদেশের বস্ত্র ও সামরিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান।





