চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দরপত্র আহ্বান করেও প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ইজারা দেয়া সম্ভব হয়নি ছয়টি বাজার। ইজারাদার না পেয়ে দ্বিতীয় দফায় এসব বাজারের সিডিউল বিক্রির তারিখ নির্ধারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র বাক্স খুলে দেখা যায় দরপত্র আহবান করা উপজেলার ৩১টি বাজারের মধ্যে ছয়টি বাজার ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করেনি কেউ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে মোট ৩১টি বাজার রয়েছে। এসব বাজার প্রত্যেক বছর ইজারা দেয়া হয়। চলতি বছরও বাজারগুলো ইজারা দেয়ার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ছিল দরপত্র দাখিলের শেষ দিন। ওই দিন বিকালে দরপত্র বাক্স খুলে উপজেলা প্রশাসন দেখতে পায় ৩১টি বাজারের মধ্যে আটটি বাজারের কোন দরপত্র জমা হয়নি। দ্বিতীয় ধাপের দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন বাক্স খুলে দেখা যায় ইজারা না হওয়া আটটি বাজারের মধ্যে ছয়টি বাজারের দরপত্র জমা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সরকার নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় ছয়টি বাজারের ইজারাদার পাওয়া যায়নি। এর জন্য বিগত সময়ে যারা ইজারা নিয়েছে তাদের দোষী দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইজারাদার বলেন, বিগত সরকারের সময় বেশি দামে বাজার ইজারা নিয়ে জোর করে ইজারামূল্য আদায় করেছে ইজারাদাররা। ফলে ৬টি বাজার নিয়ে বিপাকে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইজারামূল্য বেশি হওয়ায় কোন ইজারাদার বাজারগুলো নিতে আগ্রহী হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইজারা না হওয়া বাজারগুলো হলো মিঠাছরা বাজার, বামনসুন্দর দারোগাহাট, মাদবরহাট বাজার, ঝুলনপোল বাজার, মিঠানালা বোর্ড অফিস বাজার, ঠাকুরহাট বাজার। ইজারা না হওয়া ছয়টি বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যে রয়েছে মিঠাছরা বাজার। বাজারের ইজারামূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৩ হাজার ৬২৭ টাকা। সিডিউল মূল্য ৩১ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, সরকার নির্ধারিত ভিত্তিমূল্য কিছুটা বেশি হওয়ায় সম্ভবত প্রথম দফায় আটটি ও দ্বিতীয় দফায় ৬টি বাজার ইজারা নিতে কেউ আগ্রহী হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত ভিত্তিমূল্যের অবনমন করার সুযোগ নেই। তাই ইজারা না হওয়া ছয়টি বাজারের জন্য আবার তৃতীয় পর্যায়ে গত ফেব্রুয়ারির সিডিউল বিক্রি ও ৯ মার্চ দরপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় দফায়ও ইজারাদার পাওয়া না গেলে এসব বাজারের জন্য পঞ্চম দফা পর্যন্ত সিডিউল বিক্রি আহ্বান করা হবে। এতেও ইজারাদার পাওয়া না গেলে আমরা স্থানীয় তহশীল অফিসের মাধ্যমে ইজারা না হওয়া বাজারগুলোর রাজস্ব আদায় করবো।





