বগুড়ায় হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে দুই ব্যক্তিকে একটি ফ্ল্যাটে জিম্মি করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার ও জিম্মিদের উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের মধ্যে বগুড়ার আলোচিত কারাবন্দি তুফান সরকার ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মতিন সরকারের ভাই রয়েছে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে শহরের চকসূত্রাপুর শহীদ বিলু সড়কের রহমান ভিলার পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার দক্ষিণ ফ্ল্যাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- সদরের চেলোপাড়ার মহসিন কাজি সিজান (২৫), চকসূত্রাপুর চামড়া পট্টির মতিন সরকারের ভাই ওমর সরকার (৩৫), কেয়া বেগম (৩৩), আফসানা মিমি (২৪), কামরুন্নাহার অধোরা (২২), এনামুল হোসেন ওরফে রায়হান (২৭) ও নয়ন হোসেন (৩৫)।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে জিম্মিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ৫ হাজার ১০০ টাকা ও দুটি মোবাইলফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
এদের মধ্যে মহসিন কাজি সিজানের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা আইন, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, এনামুল হোসেন রায়হানের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও মারামারিসহ ৬টি মামলা, আলোচিত ওমর সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, মারামারি ও মাদকসহ ৬টি মামলা এবং নয়ন হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার ফজলুর রহমান (৪৪) মাসখানেক আগে তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এলে কেয়া বেগমের সাথে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল নম্বর বিনিময় হয় তাদের। গত বৃহস্পতিবার সকালে কেয়া ফোন করে ফজলুর রহমানকে বগুড়া শহরের তিনমাথা এলাকায় আসতে বলেন। তিনি এলে কেয়া ও সহযোগীরা তাকে চকসূত্রাপুরের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পর তার এক সহযোগীকেও সেখানে ডেকে আটকিয়ে রাখা হয়।
ওসি আরো জানান, ভুক্তভোগীদের মারধর করে কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে তাদের উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। জিম্মিদের পরিবার বিষয়টি ডিবিকে জানালে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে উদ্ধার ও সাতজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।









