ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি। কি দিন আর কি রাত, যে কোন মুহুর্তেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়াতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের। দুপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনাই বেশি ঘটে চলছে। আর রাতের ডাকাতি তো যেন পিছু ছাড়ছে না!
মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত, চান্দিনার তীরচর থেকে কুটুম্বপুর এবং মাধাইয়া থেকে নূরীতলা পর্যন্ত, বুড়িচং উপজেলার নিমসার থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত স্থান গুলোতেই বেশি তৎপর ছিনতাইকারী চক্র। ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেল।
ডাকাতি সংগঠিত হওয়ার পর অধিকাংশ ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জানা থাকলেও ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনাই তাদের অজানা। ছিনতাইয়ের ঘটনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ না হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হচ্ছে না ভূক্তভোগীরা।
সম্প্রতি ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অনেক মানুষ।
ছিনতাইকারী চক্র কখনও দাউদকান্দি থেকে আবার কখনও ময়নামতি থেকে টার্গেট নিয়ে মহাসড়কের ফাঁকা স্থানে মটোরসাইকেল যোগে বেরিকেট দিয় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেল আরোহীকে। মাত্র ২/১ মিনিটের মধ্যেই ছিনতাই কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে তারা।
গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে ময়নামতি থেকে চান্দিনায় আসছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম। তিনি মদিনা পেট্রোল পাম্প অতিক্রম করার পর ২টি মোটরসাইকেল যোগে ৪জন ছিনতাইকারী হঠাৎ তার মটোরসাইকেলকে চাপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে মটোরসাইকেলটি থামাতেই অপর দুই মোটরসাইকেলে থাকা ছিনতাইকারী সদস্যরা তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে এলোপাথারী কিল-ঘুষি দিয়ে তার সাথে থাকা ব্যাগ ও মানি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
২৯ এপ্রিল সন্ধ্যা রাতে চান্দিনা থাকা দাউদকান্দি যাচ্ছিলেন এসিআই ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন। তিনি রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলাধীন জিংলাতলী এলাকার ফাঁকা স্থানে পৌঁছামাত্র ৩টি মোটরসাইকেল যোগে ৬জন ছিনতাইকারী একই পদ্ধতিতে তার গতিরোধ করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী চক্রের মোটরসাইকেল আরোহীরা তার মোরসাইকেলে একের পর এক লাথি মেরে এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন তার মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করতেই ছিনিয়ে দেওয়া হয় তার সর্বস্ব।
ওই ঘটনার মাত্র এক ঘন্টা পর চান্দিনা উপজেলাধীন তীরচর এলাকায় একই কৌশলে একটি প্রাইভেটকারের গতি রোধ করে ডাকাতি করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতদল। এ ঘটনায় সন্দেহ ভাজান একজনকে আটক করাও হয়েছে।
৩ মে (বৃহস্পতিবার) বিকেলে ইলিয়টগঞ্জ বাজার থেকে ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি দাউদকান্দি যাওয়ার সময় পেট্রোল পাম্পটি অতিক্রম করার পর প্রাইভেটকার যোগে ওই বিক্রয় প্রতিনিধির মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার সর্বস্ব লুটে নেয় ছিনতাইকারীরা।
২০ মে (রবিবার) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে নিজ বাড়ি চান্দিনার মাধাইয়া ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রাম থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে মাধাইয়া বাজার বাস স্টেশন এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মনিরুল ইসলাম (৪৫)।
এসময় একটি মোটরসাইকেল যোগে ৩জন লোক এসে তাকে ঘিরে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে তার হাতে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু মনির তার হাতের ব্যাগটি না ছাড়ায় ছিনতাইকারীর প্রথমে তার হাতে ও বাহুতে ছুরিকাঘাত করে পরপর দুইটি গুলি করে। এতে একটি গুলি তার হাতে লাগে এবং অপরটি তার বুকে লাগে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এমন অহরহ ঘটনায় মহাসড়কে চলাচলরত যাত্রীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত আলী জানান, মহাসড়কে ছিনতাইয়ের মত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা মাঝে মধ্যে ঘটে। তবে মটোরসাইকেল যোগে ছিনতাইকারীদের তৎপরতার বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ (বৃহস্পতিবার) যেহেতু বিষয়টি শুনেছি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।