রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, কাজী নজরুল সমাজ পরিবর্তনের যে অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে গেছেন তার আলোকচ্ছটা আমাদেরকে সোনার বাংলা গড়তে অনুপ্রাণিত করবে। আমার বিশ্বাস নতুন প্রজন্ম নজরুল চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে এবং বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক, একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে দেশপ্রেমের মহান ব্রতে উজ্জীবিত হয়ে জাতি গঠনে অর্থবহ অবদান রাখবে। বিকেলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
নজরুলের বাল্য স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুরে নজরুল অ্যাকাডেমির মাঠে সাংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সিমিন হোসেন রিমির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন : সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: মসিউর রহমান। নজরুল স্মারক বক্তা ছিলেন বেগম আকতার কামাল। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বাংলা সাহিত্য-সঙ্গীতের অন্যতম পথিকৃৎ জাতীয় জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তার কালজয়ী প্রতিভা ও জীবন দর্শন, মানবিক মূল্যবোধের স্ফূরণ, সমৃদ্ধশালী লেখনী বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। নজরুল শুধু বাংলার জাতীয় কবিই নন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, আমাদের জাতীয় সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নজরুলের লেখনী আমাদের উজ্জীবিত করেছে।
তিনি আরো বলেন, আসানসোলের রুক্ষ এলাকা থেকে আগত নজরুলের মনে সুজলা, সুফলা শস্য-শ্যামলা ত্রিশালের প্রকৃতি প্রবলভাবে রেখাপাত করেছিল। প্রকৃতিপ্রেম এবং সৃষ্টিশীলতার এই পরিবেশে কবিকে উদ্বেলিত করেছিল। শ্রেণিকক্ষে গতানুগতিক পড়াশুনার প্রতি ততটা মনোযোগী না হলেও বরাবরই তিনি ভালো ফল করতেন এবং প্রতিভাগুণে তিনি শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রবলভাবে আকৃষ্ট করতেন। সময় পেলে ছুটে যেতেন স্কুলের নিকটবর্তী ঠুনিভাঙ্গা ঝিলের তীরে। আনমনে বাজাতেন বাঁশি। বিশেষত সে বালক বয়সেই তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। এ সময় দরিরামপুর স্কুলে মহিম বাবুর পরিচালনায় স্কুলে একটি বিচিত্রা অনুষ্ঠান আয়োজিত হলে নজরুল সেই অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ‘দুই বিঘা জমি’ এবং ‘পুরাতন ভৃত্য’ আবৃত্তি করে উপস্থিত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।
নজরুলের ত্রিশাল অধ্যায় উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, কবির প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহ সাহেব তাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং বালক নজরুলের লেখাপড়ায় যাতে বিঘœ না ঘটে সে প্রত্যয়ে তিনি তাকে নিজ গ্রামে প্রেরণ করেন। এভাবেই ১৯১৪ সালে নজরুলের দরিরামপুর জীবনের সূচনা ঘটে।
পরে নজরুল মঞ্চে এক মনোঞ্জ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশত হয়।
জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জন্মজয়ন্তীর উদ্বোধন
নতুন প্রজন্ম নজরুল চর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে : রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ বলেছেন, কাজী নজরুল সমাজ পরিবর্তনের যে অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে গেছেন তার আলোকচ্ছটা আমাদেরকে সোনার বাংলা গড়তে অনুপ্রাণিত করবে। আমার বিশ্বাস নতুন...





