মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তান নগর হাসপাতালের প্রধান ফটকসহ দুপাশের সড়ক সংকীর্ণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মানের চেষ্টার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী এই বিষয়ে স্বাস্থ্য কমর্কর্তার কাছে হাসপাতালের প্রধান গেট থেকে পুরাতন ও নতুন মহাসড়কের দুপাশ্বের সড়ক প্রসস্থ রাখার দাবী পেশ করার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রাচীর নির্মানকারী কর্তৃপক্ষের বরাবরে এই বিষয়ে চিঠি প্রেরন করে। কিন্তু পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ঠিকাদার দ্বারা সেখানে তবুও সড়ক দখল করে কাজ করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে এক দিকের কাজ সাময়িক স্থগিত রেখেছে ঠিকাদার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতাল গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক পার্শ্বে সাময়িক স্থগিত রাখা নির্মানাধিন সীমানা প্রাচির এর অপর পার্শ্বে নির্মান কাজ করছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়োজিত ঠিকাদার। সেখানে উপজেলার হাসপাতালের মূল ফটকেই এই পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়টি উক্ত কার্যালয়টির চার পার্শ্বে এতো বছর সীমানা প্রাচীর ছিলনা। তবে আরসিসি খুটি দ্বারা তাঁর কাটা দেয়া ছিল।

স্থানীয় প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্বামান (৭০) বলেন সম্প্রতি সীমানা প্রাচীর দেয়ার কাজ শুরু করা হলে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন এর নির্দেশনা ও তত্বাবধানে উক্ত সীমানা প্রাচীর পূর্বেও আর সিসি সীমানা পেরিয়ে হাসপাতাল সড়কের দিকে আরো অন্তঃত ৫ ফুট এগিয়ে চলাচলের পথ সহ বন্ধ করে প্রাচীর নির্মানের সিসি ঢালাই দেয়া কালে এলাকাবাসী এতে বাধা দেয়। এলাকাবাসী জানায়, এমনিতেই হাসপাতালে ররাস্তাটি অনেক ছোট। তাই দুটি গাড়ি পাশা পাশি ক্রস করতে ও পারেনা অনেক সময়।

হাসপাতালের সড়কের পথচারি আবুল খায়ের ( ৪৮) বলে রাস্তা ও যেমন সরকারি আবার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ও সরকারি। তবে ওদের ভেতরের অংশে বিশাল খালি জায়গা থাকা স্বত্বেও ওরা রহস্যজনক ভাবে রাস্তা দখল করে এই সীমানা প্রাচীর নির্মান করছে।যা উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালের নিত্য জরুরী মুমুর্ষ রোগী যাতায়াতে ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।

হাসপাতাল গেইটের ফার্মেসী ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এলাকার মানুষ এখানে বারবার প্রতিবাদ করার পর ওরা তবুও ঝুকিপূর্ণভাবে খুবই সংকীর্ণ করে ফেলতে চায় হাসপাতালের রাস্তাটি। অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও শত শত গাড়ি ভীড় করে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার সাড়ে ৪ লক্ষ জনগনের স্বাস্থ্য রক্ষার ঠিকানা। এই প্রতিষ্ঠানের চলাচলের পথ নিয়ে এভাবে তামাশা করাটা সত্যিই অস্বাভাবিক বলে মন্থব্য করেন তিনি।

এছাড়া আরো কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে ঠিকাদার কর্তৃক নিন্মমানের সিমেন্ট, বালু, নিন্মমানের কংক্রিটও রড দিয়ে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করেই ছোট ছোট গর্ত কওে মনগড়া কাজের অভিযোগ ও তোলা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা সুপার ভাইজার শিপন উদ্দিন বলে আমি কর্মচারি মাত্র। ঠিকাদার রুবায়েতের মোবাইলে এই বিষয়ে কথা বলতে বারবার ফোন দিলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সৈয়দ নুুরুল আবছার বলেন, আমি উক্ত রাস্তা সংকীর্ণ করে ফেলছে দেখে পরিবার পরিকল্পনা বরাবরে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা সিভিল সার্জেন্ট এর কাছে চিঠি দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কায়সার খসরু ইতিমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে হাসপাতালের সড়ক প্রসস্থ রেখে সীমানা প্রাচীর নির্মান করতে বলেন । কিন্তু এরপর ও ওরা প্রাচীরের ঢালাই কিছুটা না সরানোতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর বিষয়ে তিনি বলেন এই হাসপাতাল এই এলাকার সম্পদ,এলাকার সাধারন মানুষ যদি ক্ষুব্ধ হয়ে কোন ঘটনা ঘটায় এর জন্য আমরা দায়ী থাকবোনা।

এই বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন বলেন, নিন্মমানের কাজের বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। হাসপাতালের রাস্তার জন্য ছাড়ের বিষয়ে তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির বলেন, হাসপাতাল যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাই হাসপাতালের বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে ছাড় দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান ।