দেশব্যাপী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক নির্মুল অভিযান শুরু হওয়ার খবরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টরা অনেকেই আত্মগোপন করেছে। এখন আর পূর্বের ন্যায় মাদকের ডিলার, বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও সেবনকারীদের খুব একটা চোখে পড়ছে না।
গত ২৭ দিনের অভিযানে শরণখোলা থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কিছু ক্ষুদে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবিদের আটক করলেও মুল মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলে সচেতন মহলে সরকারের মাদক নির্মুল অভিযানের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলে ছোট্ট এ উপজেলায় ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল সহ নানা রকমের মাদকের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১০/১২ জন ডিলার, ২০/২৫ বিক্রেতা, ৩৫/৪০জন সরবরাহকারী সহ সহা¯্রাধিক সেবনকারী রয়েছে। ডিলারদের মধ্যে উপজেলার সাউথখালী ও খোন্তাকাটা এলাকায় ৩ জন জনপ্রতিনিধি, তাদের নিকট আত্মীয়, এমনকি আপন ভাইও রয়েছে।
বিক্রেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা, সরবরাহকারী দলে রয়েছে কলেজ ছাত্র-ছাত্রী, প্রবাসীর স্ত্রী, গ্রাম্য যুবতী ও স্বামী পরিত্যাক্ত সহ কমপক্ষে ১০ নারী। বিক্রেতাদের মধ্যে কারো কারো নামে ৫/৭টি মামলা চলমান রয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলার খাদা, রায়েন্দা বাজার, জিলবুনিয়া, রাজৈর, তাফালবাড়ী, খুড়িয়াখালী, চালিতাবুনিয়া, দক্ষিণ তাফালবাড়ী, চাল-রায়েন্দা, খোন্তাকাটা, রাজৈর বাসষ্ট্যান্ড সহ অর্ধশতাধিক পয়েন্টে বিক্রেতা ও সরবরাহকারী দল সক্রিয় রয়েছে। তবে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মাদক ব্যবসায়ী বন্দুক যুদ্ধে নিহতের খবরে ইতিমধ্যে অনেকেই আত্মগোপন করেছেন।
মাদক সরবরাহ কাজে নিয়োজিত নারী সদস্যদের অনেকেই দেহ ব্যবসার সাথেও জড়িত রয়েছে। তবে ওই নারী সদস্যদের সাথে উপজেলার খাদা গ্রামের এক যুবক বেশ ঘনিষ্ঠতায় জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এরা কৌশলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। যার ফলে অভিভাবক মহল তাদের কোমলমতি সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সেবনকারীদের মধ্যে রায়েন্দা বাজারে কিশোর ও যুবক সহ ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের সন্তানরা এগিয়ে রয়েছেন। এরা গভীর রাত পর্যন্ত বাজারের ব্যাংক পাড়া, লঞ্চঘাট, বেরিবাঁধ, হাইস্কুল মাঠ, বিভিন্ন সাইক্লোন শেল্টার সহ নানা অলিগলিতে আড্ডায় মেতে থাকে। পুলিশি টহল ও বাজার পাহারাদার ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টরা নির্বিঘেœ তাদের কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এছাড়া মাদকের অর্থ যোগাতে বিপথগামী যুবকরা রায়েন্দা বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চুরির পাশাপাশি নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। মাদক বিকিকিনির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদেরকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ আছে।
অপরদিকে, মাদক নির্মূলের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতা বহুবার উদ্দ্যোগ নিলেও তারাও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে এ অনৈতিক কর্মকান্ডে।শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবিরুল ইসলাম জানান, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।