মৌলভীবাজারের রাজনগরে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত যুবতীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম রাশেদা বেগম (৩০)। তিনি সিলেটের উসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় পুলিশ আবারক মিয়া (২২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মজম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে।
রোববার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গণধর্ষণ শেষে রাশেদাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের (৩০) মোবাইল ফোনের সূত্রে পরিচয় ছিল গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের এক যুবকের সঙ্গে।
এর সূত্র ধরে বেশ কয়েকবার তাদের দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে। গত ৩০ মে বুধবার তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌলভীবাজার আসেন রাশেদা বেগম।
ঐদিন সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের ওই যুবককে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন রাশেদা। এসময় ওই যুবক আবারক মিয়াকেও ফোন দিয়ে রাজনগর নিয়ে আসেন। রাশেদাকে নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের পার্শবর্তী মাছুয়া নদীর ধার ঘেসে পুশ্চিম দিকে যেতে থাকেন।
এসময় দক্ষিন খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে নদীর ধারে এসে ওই যুবক রাশেদাকে কুপ্রস্তাব করেন। এতে সে রাজি না হওয়ায় উভয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গলায় ওড়না পেছিয়ে তাকে হত্যা করেন ধর্ষকরা। পরে লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে নদীর পানিতেই তলিয়ে দেন রাশেদার লাশ।
এ ঘটনায় রাশেদার ভাই আব্দুল খালিদ রাজনগর থানায় মামলা করেন। মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবারক মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার থেকে গ্রেফতার করে।
রোববার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের ম্যজিস্ট্রেট জিয়াদুল হকের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এদিকে নিহতের ভাই মামলায় উল্লেখ করেছেন পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে রাশেদা বেগম ধান কেনার জন্য এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকার ধান কেনার কথা ছিল। তবে নিহতের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেনি আসামি আবারক মিয়া।
উল্ল্যেখ্য যে গত শুক্রবর রাতে রাজনগর থানা পুলিশ দক্ষিক খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিমে মাছুয়া নদী থেকে ভাসমান এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের খবর পেয়ে নিহতের ভাই রাজনগর থানায় এসে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল ইসলাম বলেন, আসামীরা রাশেদাকে ধর্ষণ করে লাশ পানিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, নিহতের স্বজনরা লাশ নিয়ে গেছে। মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরো পড়ুন :
গণধর্ষণের শিকার দুই স্কুল ছাত্রী, আটক ১
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দুই স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ একজনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর কলাতলী পাড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই স্কুল ছাত্রী তাদের বন্ধু মিজানকে নিয়ে এক বান্ধবীর বাড়িতে রওনা দেয়। যাওয়ার পথে কাজীরচর গ্রামের কলাতলী পাড়া পৌছলে জীবন, ইব্রাহিম, মনির ও মোস্তফা দুটি মোটরসাইকেল এসে তাদের পথরোধ করে। তারা তাদেরকে পাশের ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে লেবু বাগানে নিয়ে যান। সেখানে তারা মিজানকে বেঁধে রেখে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এরপর তারা মিজানের মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেন।
ধর্ষণের পর মামলা মোকদ্দমা না করতে হুমকি দেন ধর্ষকরা। ধর্ষকদের ভয়ে বিষয়টি ছাত্রীরা তাদের অভিভাবকদের কাছে গোপন রাখে। কিন্তু মিজানের মোবাইল ফোনটি ধর্ষকরা ফেরত না দেয়ায় ধর্ষণের ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এলাকার প্রভাবশালীরা বিষয়টি আপস মীমাংসার জন্য ছাত্রীদের অভিভাবকদেরকে চাপ দেন। কিন্তু অভিভাকরা তাতে রাজি হননি।
শনিবার ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলামের নির্দেশে কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রব্বানী গভীর রাতে মসূয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোস্তফাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে গণধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রব্বানী বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ নিয়ে অভিযানে নামি এবং প্রধান ধর্ষক মোস্তফাকে আটক করি। এ ব্যাপারে কটিয়াদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত আছে।





