ভুল চিকিৎসায় এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বাকপ্রতিবন্ধী মেহেদী হাসান (২০)। ফরিদপুরে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় তার এমন অবস্থা বলে জানালেন তার স্বজনরা। বর্তমানে তাকে সাভারের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
মেহেদি হাসানের বাড়ি শহরের রঘুনন্দনপুরে। পিতার নাম জামাল শেখ।
মেহেদির ভাই বিপুল খান জানান, জন্মগতভাবে বাক প্রতিবন্দী মেহেদির খিচুনী রোগ ছিলো। গত ২৬ মে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুরে ডা. প্রভাত রঞ্জন প্রামানিকের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। মেহেদিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র দেন ডা. প্রভাত। তিন দিন ওষুধ খাওয়ার পর একরাতের মধ্যে সারা শরীরে ফোসকা পড়ে যায় তার। এরপর তাকে পুনরায় ডা. প্রভাতের নিকট নিয়ে গেলে তিনি আগের ব্যবস্থাপত্র কেটে মেহেদিকে ঢাকায় প্রেরণ করেন।
তবে পরিবারের লোকজন এরপর পরিচিত ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ড. রাধেশ্যামও মেহেদির শারীরিক অবস্থা দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা নেয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর গত শনিবার রাতে মেহেদিকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবীড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের ৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ড গঠন করে মেহেদির চিকিৎসা দেন। তার শরীরের ৯০ ভাগেরই বেশি চামড়া পুড়ে গেছে বলে সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান।
এনাম মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তবে আমরা রোগীকে সুস্থ করার জন্য আপ্রাণ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে, তাই তাকে সুস্থ করতে হলে বেশ বেগ পেতে হবে।
এদিকে, মেহেদির অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। মেহেদির বাবা জামালউদ্দিন অভিযোগ করেন, ডাক্তার প্রভাত রঞ্জন প্রমাণিক সারাদিন কমপক্ষে একশ’ রোগী দেখেন। তার অধিক ব্যস্ততার কারনেই তিনি আমার ছেলেকে ভুল ওষুধ লিখে দিয়েছেন। যার জন্য এখন আমার ছেলের এই অবস্থা। আমি এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জানতে ডা. প্রভাত রঞ্জন প্রামানিককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমার চিকিৎসায় কোনপ্রকার ক্রটি নেই। রোগীকে সঠিক চিকিৎসাই দিয়েছি। রোগীর যে সমস্যা হয়েছে সেটা ওষুধের সমস্যার কারণে হয়েছে। চিকিৎসার কারণে নয়।





